দেশে যেসব বন্যপ্রাণী বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

Manual8 Ad Code

সংগ্রাম দত্ত:

মানুষের আগ্রাসন, লোভে বা অপরিকল্পিত নগরায়নে উজাড় হচ্ছে বন। বনাঞ্চলের সঙ্গে কমছে প্রাণীর সংখ্যাও। খাদ্য ও বাসস্থানের সংকট, অবৈধ শিকার, পাচার, কীটনাশকের অতি ব্যবহারের মতো নানা কারণে প্রতি বছরই পৃথিবী থেকে কোনো না কোনো প্রাণী বিলুপ্ত হয়।

সিলেটে বনবিভাগের প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭১৪ একর জমির মধ্যে প্রায় ৫৮ হাজার একরই বেদখলে রয়েছে। নতুন করেও বেদখল হচ্ছে অনেক জমি। প্রায় এক তৃতীয়াংশ জমি বেদখলে থাকলেও তা উদ্ধারে বনবিভাগের তৎপরতা সামান্যই বলে “দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড” গত ১১ এপ্রিল ২০২১ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে । অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একশ্রেণীর প্রভাব প্রতিপত্তিশালী লোকজন অবৈধভাবে দখল করে জনবসতি স্থাপনের কারণে বিগত অর্ধশত বছরে সিলেট বনাঞ্চলের পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্ট বনাঞ্চলের আয়তন ১ হাজার ১৫২ বর্গ কিলোমিটার থেকে মাত্র ১৩৫ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে বলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। যা’ বন্যপ্রাণি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

লাউয়াছড়া বনাঞ্চলসহ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও জুড়ী বনাঞ্চলে ও হবিগঞ্জ জেলার রেমা কেলেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিগত বছরগুলোতে চশমাপরা হনুমান এর মৃত্যুর খবর বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রকাশ পেয়েছে।

বিগত পাঁচ দশকে উপর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান (যা এক সময়ে ভানুগাছ পাহাড় ) এ একশ্রেণীর প্রভাব প্রতিপত্তিশালী গোষ্ঠী সঙ্ঘবদ্ধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বনাঞ্চলে ঢুকে বনাঞ্চলের বিভিন্ন মূল্যবান গাছ,বাঁশসহ বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ কেটে উজাড় করেছে। এসব কার্যকলাপের জড়িত অনেকে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক ও জনপ্রতিনিধি বনে বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতা সেজেছেন বলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ইতিপূর্বেই খবর বেরিয়েছে।

সঙ্ঘবদ্ধ প্রভাবশালী গোষ্ঠী বনাঞ্চল দখল করে বসতি স্থাপন, রিসোর্ট ও চা বাগান তৈরি, বনজ সম্পদ ধ্বংস করার কারণে বন্যপ্রাণীরে খাদ্য সংকট দেখা দেয়ায় বন্যপ্রাণী খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে ছুটি আসছে। অনেক সময় মানুষের হাতে বা সড়কে গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বেশিরভাগই মানুষের হাতে ধরা পড়ছে।

শ্রীমঙ্গল থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে বাসা বাড়িতে, ক্ষেতের ফসলে, মাঠে ও ঝোপঝাড়ে বিষাক্ত সাপসহ বিভিন্ন ধরনের বন্য প্রাণী ধরা পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন- শ্রীমঙ্গল দীর্ঘ দেড় যুগের উপর শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও তার আশপাশ এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন রকমের প্রায় সাত শতাধিকের উপরে বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে চিতাবাঘের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় পর আবারও পাওয়া গেছে অমূল্য বন্যপ্রাণী চিতাবাঘের স্পষ্ট ছবি।
বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা Creative Conservation Alliance (CCA)-এর গবেষণা দলের নিরলস প্রচেষ্টায় পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর অরণ্যে ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়েছে এক চিতাবাঘের দারুণ দৃশ্য। বাঘ বনে চলাফেরার এই দুর্লভ মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেছেন শাহরিয়ার সিজার এবং সৌরভ চাকমা-এর নেতৃত্বাধীন গবেষক দল। এর আগে ২০১৫ সালেও এই সংস্থাটি সাঙ্গু-মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেস্টে চিতাবাঘের অস্তিত্বের প্রমাণ পায় । যা’ নিঃসন্দেহে প্রকৃতি ও পরিবেশপ্রেমীদের জন্য এক আনন্দদায়ক ও আশাব্যঞ্জক খবর।

বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার এই হার বাংলাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের ২০১৫ সালের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা ৩১টি। বাংলাদেশ নিয়ে এই সংস্থার ২০০০ সালের প্রতিবেদনে সংখ্যাটি ছিল ১৩। অর্থাৎ ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে অন্তত ১৬টি প্রজাতির প্রাণী।

আইইউসিএন তাদের ২০১৫ সালের হিসেব অনুযায়ী বলছে বাংলাদেশে ১৬০০-এর বেশি প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৯০টি প্রজাতিই বিলুপ্তির হুমকির মুখে রয়েছে। এই প্রজাতিগুলোকে আইইউসিএন লাল তালিকাভুক্ত করেছে।

এই ১৬০০ প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে ৫০টিরও বেশি প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে চিহ্নিত করেছে আইইউসিএন। যাদের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি প্রাণী নিয়ে এই প্রতিবেদন-

শকুন বাংলাদেশে এক সময় সাত প্রজাতির শকুন ছিল। কিন্তু এর মধ্যে রাজ শকুন পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এর মানে হচ্ছে গত ৪০ বছরে একটিও রাজ শকুন দেখা যায়নি দেশের কোথাও।

Manual6 Ad Code

আইইউসিএন বলছে, শকুন এখন সংস্থাটির লাল তালিকাভুক্ত প্রাণী। এর মানে হচ্ছে, প্রকৃতি থেকে যদি কোন প্রাণীর মোট সংখ্যার ৯০ শতাংশই হারিয়ে গিয়ে থাকে তাহলে সেটি রেডলিস্ট বা লাল-তালিকাভুক্ত প্রাণী হয়। ১৯৭০ সালের শকুন শুমারিতে দেখা গিয়েছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মানে আজকের বাংলাদেশে ৫০ হাজারের মত শকুন ছিল। বাংলাদেশে ২০০৮-০৯ সালে চালানো শুমারিতে দেখা যায় শকুনের সংখ্যা নেমে আসে ১৯৭২টিতে। এর কয়েক বছর পর ২০১১-১২ সালে শকুনের সংখ্যা আরো কমে দাঁড়ায় ৮১৬টিতে। আর সর্বশেষ ২০১৪ সালে শকুন কমতে কমতে দাঁড়ায় মাত্র ২৬০টিতে। অথচ এক সময়ে বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই দেখা মিলত বৃহদাকার এই পাখিটির।

চিতা বাঘ সারা বিশ্বে বিপন্ন বা সংকটাপন্ন না হলেও বাংলাদেশে চিতা বাঘকে চরম সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইইউসিএন।

Manual1 Ad Code

পরিবেশবিদরা বলছেন, একসময় শহরের আশেপাশেও চিতা বাঘ দেখা যেত যার সংখ্যা কমতে কমতে এখন এই প্রাণীটি চরম সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Manual6 Ad Code

৪/৫ দশক পূর্বেও চিতাবাঘের আক্রমণে মানুষ আহত বা নিহত হওয়ার পুলিশ অথবা মেডিকেল রেকর্ডে পাওয়া যেত । কিন্তু এখন জঙ্গলেও চিতা বাঘের দেখা পাওয়া দুষ্কর ।
বাংলাদেশে যে ধরনের চিতা বাঘ পাওয়া যায় সেটিকে ইন্ডিয়ান লেপার্ড বলা হয়, যার বৈজ্ঞানিক নাম প্যান্থেরা পার্ডাস। বাংলাদেশসহ পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভূটানে এই ধরনের চিতা বাঘ দেখা যায়। ভারতের বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভারতে এই ধরনের চিতার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। অন্যদিকে বাংলাদেশে এর সঠিক সংখ্যাই জানা যায় না।

Manual2 Ad Code

বন্য প্রাণী নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর ২০২১ সালের অনুমান অনুযায়ী বাংলাদেশে চিতার সংখ্যা ৩০ থেকে ৫০টি। দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য এলাকাগুলোর পাশাপাশি লালমনিরহাট, শেরপুর, কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলেও চিতা বাঘ দেখতে পাওয়া যায়।

উল্লুক চার দশক আগেও বাংলাদেশের বনে প্রায় তিন হাজারের মত উল্লুক বা ওয়েস্টার্ন হুলক গিবন ছিল। ২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা যায় সেই সংখ্যা এখন নেমে এসেছে ২০০ থেকে ৩০০-তে। ঐ গবেষণায় দেখা যায় যে চট্টগ্রাম ও সিলেটের বনাঞ্চলে উল্লুকের উপস্থিতি রয়েছে।

বৈজ্ঞানিকভাবে হুলক হুলক নামে পরিচিত এই প্রাণীটির আবাস শুধু বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারেই। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে এই প্রজাতির ২৬০০ উল্লুক রয়েছে, যার বেশিরভাগই আসামে। মিয়ানমারে কিছু রয়েছে, যার সংখ্যা পরিষ্কারভাবে জানা যায় না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ঐ গবেষণার প্রধান গবেষক হাবিবুন নাহার বলছেন, ‘এর আগে উল্লুক ছিল, এরকম উখিয়া, সাজেক ভ্যালি, চুনাতির মতো কয়েকটি বন থেকে এই প্রাণীটি হারিয়ে গেছে। আবার কিছু সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রাণীটির সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে।’

তিনি বলছেন, বনাঞ্চলে বড় বড় গাছ কেটে ফেলা, খাদ্য সংকট, অবৈধভাবে উল্লুক শিকারের কারণে বনগুলো থেকে এই প্রাণীর সংখ্যা কমছে। উল্লুক যেহেতু বড় বড় গাছের মগডালে থাকে, লাফ দিয়ে যাতায়াত করে। সেখানে এরকম গাছ কেটে ফেলা হলে তাদের বাসস্থানের পরিবেশে নষ্ট হয় যায়, চলাফেরা সীমিত হয়ে যায়। আবার তারা যেসব খাবার খায়, সেই গাছগুলো কেটে ফেলা হলে খাবারের জন্যও সংকট তৈরি হয়। ফলে অনেক বন থেকে প্রাণীটি হারিয়ে গেছে।

অনেকে পোষার জন্য বেআইনিভাবে উল্লুক আটকে রাখে। কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এই প্রাণীটি খাবার হিসাবেও খায়।

ঘড়িয়াল সত্তরের দশকেও বাংলাদেশ, ভারতসহ পাকিস্তানের সিন্ধু নদী, উত্তর নেপাল ও ভূটানের নদীতে অহরহ দেখা মিলতো ঘড়িয়ালের। ১৯৭৪ সালেও পৃথিবীতে ৫ থেকে ১০ হাজার ঘড়িয়াল ছিল বলে উঠে আসে গবেষণায়।

তবে নদী ও জলাশয় দখল, অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছ ধরা ও শিকার করার প্রবণতার কারণে আশির দশকের শেষদিক থেকেই ঘড়িয়াল সারা বিশ্বে সংকটাপন্ন প্রাণী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইইউসিএনের হিসেবে বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল মিলে পৃথিবীতে মোট ২০০টির মত ঘড়িয়াল রয়েছে।

বাংলাদেশে ঘড়িয়ালের সংখ্যা সঠিকভাবে না জানা গেলেও আইইউসিএনের গবেষণা অনুযায়ী ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পদ্মা, যমুনা, মহানন্দা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে ৫৮ বার ঘড়িয়াল দেখা গেছে।

বনরুই বিশ্বে ৮ প্রজাতির বনরুইয়ের দেখা মেলে। তারমধ্যে বাংলাদেশে মালয়, ভারতীয় ও চায়না বনরুই ছিল। এমন ধারণা থাকলেও বর্তমানে চায়না বনরুই ছাড়া অন্য প্রজাতির বনরুইয়ের দেখা মিলছে না। কেননা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণি হচ্ছে বনরুই।

গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, সিলেট এবং মৌলভীবাজারের বিভিন্ন বনে চায়না প্রজাতির বনরুইয়ের দেখা মেলে। তবে তা বর্তমানে বিলুপ্তির শেষ প্রান্তে। মহা বিপন্ন হিসেবে আছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ পরিষদ (আইইউসিএন)। অবাধ শিকার, পাচার, বাসস্থান নষ্টের কারণে এখন তারা মহা বিপন্ন তালিকাভুক্ত।

এগুলো ছাড়াও বনগরু, বনবিড়ালসহ বিভিন্ন ধরনের ভোঁদড়, বানর, কচ্ছপ বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

মেছো বাঘ বাংলাদেশে আট প্রজাতির বিড়াল বা বাঘ দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে মেছো বাঘ বা মেছো বিড়াল খুবই নিরীহ একটি প্রাণী। সারা বিশ্বেই মেছো বাঘ এখন একটি সংকটাপন্ন প্রাণী। ২০০৮ সালে এটি সংকটাপন্ন থেকে বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় স্থান পেয়েছিল। সে সময় বিশ্বজুড়ে মূলত ৫০টি জলাশয়ে অতিরিক্ত মেছো বাঘ হত্যার ঘটনা বিচারে নিয়ে এ বিপন্ন তালিকা তৈরি করা হয়।

প্রাণীটি বাংলাদেশেও বিপন্ন। এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশে মোট ৮২টি মেছো বাঘ আটক হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি বাঘ মেরে চামড়া ছাড়ানো হয়েছে।

সারা দুনিয়ায় ১০ হাজারের মতো মেছো বাঘ টিকে আছে। বাংলাদেশে কত মেছো বাঘ আছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে, বিশেষ করে পাকিস্তান থেকে তারা হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন গ্রামেও এ বাঘ আর নেই। মূল কারণ আবাস হারিয়ে যাওয়া।

হাতি বাংলাদেশে যে প্রজাতির হাতি দেখতে পাওয়া যায় সেটিকে এশিয়ান এলিফ্যান্ট বলা হয় যার বৈজ্ঞানিক নাম এলিফাস ম্যাক্সিমাস। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও ময়মনসিংহের পাহাড়ি অঞ্চলে এই হাতি পাওয়া যায়।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের হিসেবে, পৃথিবীতে এই ধরনের হাতির সংখ্যা বর্তমানে ২০ থেকে ৪০ হাজার। তারা বলছে গত ৭৫ বছরে এই প্রজাতির হাতির সংখ্যা প্রায় ৫০ ভাগ কমেছে।

আইইউসিএনের হিসেব মতে এই ধরনের হাতি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মিয়ানমারসহ ১৩টি দেশে রয়েছে। সংস্থাটির তালিকা অনুযায়ী বিশ্বে এই প্রাণীটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত হলেও বাংলাদেশে এটি ‘চরম সংকটাপন্ন’ অবস্থায় রয়েছে। তাদের ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে জানায় যে বাংলাদেশের বনাঞ্চলে ২৮৬টি এবং বন বিভাগের নিয়ন্ত্রাণাধীন চিড়িয়াখানা বা সাফারি পার্কে আরো ৯৬টি হাতি রয়েছে। তবে এই সংখ্যা গত কয়েক বছরে আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

শুধু ২০২১ সালেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩০টির বেশি হাতি মারা হয়েছে বলে গত বছর এক সংবাদ সম্মেলনে জানায় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর জোট ‘বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোট।’ তারা বলছে বাংলাদেশে বনাঞ্চলে হাতির সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ২০০।

হাতির আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া, হাতি চলাচলের পথে বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি হাতি সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগ না নেয়া হাতির সংখ্যা কমে আসার বড় কারণ মনে করা হয়।
প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সচেতন মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া আরও জরুরি ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  • দেশে যেসব বন্যপ্রাণী বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে
  • Manual1 Ad Code
    Manual8 Ad Code