সিলেটে করোনার সঙ্গে যার ‘বসবাস’

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

মরণব্যধি করোনা সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও চালাচ্ছে তাণ্ডব। সিলেটেও হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সিলেটে করোনা উপসর্গ নিয়ে কিংবা আক্রান্ত কারো শরীর খারাপ করলে ছুটেন ডা. শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের দিকে। আর এ ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় ডাক পড়ে শামসুদ্দিন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের।

সিলেটে ডা. শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চলছে করোনা রোগীদের চিকিৎসা। এ হাসপাতালে করোনা রোগীদের নিয়ে আসতে অথবা তাদের অন্যত্র বা বাড়ি পৌঁছে দিতে প্রয়োজন হয় তাকে। বলা যায়- বর্তমান পরিস্থিতিতে যেন করোনার সঙ্গেই বসবাস করছেন আব্দুল হালিম।

Manual2 Ad Code

সিলেট নগরসহ পুরো জেলার ভেতরে কোনো করোনা সন্দেহজনক বা পজিটিভ রোগীকে শামসুদ্দিনে নিয়ে আসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হয় মোহাম্মদ আব্দুল হালিমকে। যতটা না চাকরির স্বার্থে, তার চেয়ে বেশি ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই তাগিদে আব্দুল হালিম অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ছুটেন করোনা রোগীর সেবায়। এমন রোগীর সেবা করে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন বলে জানালেন এ প্রতিবেদককে। হালিমের এই কথারই প্রমাণ গত ২৮ মার্চ পেয়েছিলেন সিলেটবাসী।

ফিনল্যান্ড থেকে আসা এক যুবক গত মাসের ২৮ তারিখ সিলেট নগরীর মীরবক্সটুলায় সড়কের পাশে একটি ভবনের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যায় পুলিশ। ভিড় করেন উৎসুক জনতা। উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরাও। কিন্তু অজ্ঞান সেই ফিনল্যান্ডের নাগরিককে সেদিন অ্যাম্বুলেন্সের তোলার সময় কাউকেই স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীসহ উপস্থিত সবাই যেন সেদিন করোনাভয়ে তটস্থ ছিলেন। অজ্ঞান সেই ব্যক্তি থেকে ছিলেন কমপক্ষে ১৫-২০ হাত দূরে। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল একজন মানুষ। আর তিনি হলেন শামসুদ্দিন হাসপাতালের এই অ্যাম্বুলেন্সচালক মোহাম্মদ আব্দুল হালিম।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, মানুষ করোনাকে ভয় পায় কেন বুঝতে পারলাম না। মানুষের মরণতো নির্ধারিত সময়েই আসবে। এর এক সেকেন্ড আগেও কেউ মরবে না, এক সেকেন্ড পরেও নয়।

Manual2 Ad Code

গতকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হালিমের সঙ্গে ফোনে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তবে বেশি কথা বলতে পারেননি তিনি। জানালেন, সকাল ৬টায় অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বের হয়েছিলেন। এখনও (বিকেল ৫টা) পর্যন্ত চলার উপরে আছেন। সকালে কোম্পানীগঞ্জ থেকে এক রোগীকে নিয়ে এসে শামসুদ্দিনে রেখে আবার ছুটতে বিয়ানীবাজারে, সেখান থেকে আরেক রোগীকে শামসুদ্দিনে নিয়ে আসার জন্য। কাজের ব্যস্ততায় বিকেল গড়িয়ে গেলেও সকালের খাবারটুকু খেতে পারেননি বলে জানালেন আব্দুল হালিম।

Manual4 Ad Code

তিনি জানালেন, চাকরিজীবনের ৩২ বছর চলছে। তিনি প্রথমে ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক। ৬ বছর আগে আসেন শামসুদ্দিনে। আর বেশিদিন নেই চাকরিজীবনের। শামসুদ্দিন থেকেই কিছুদিনের মধ্যে অবসরে যাবেন তিনি।

Manual7 Ad Code

হালিম বলেন, ‘’চাকরিজীবনে কত ধরণের রোগে কতো লাশের মিছিল দেখলাম। কিন্তু এবার করোনায় মৃত্যু নিয়ে মানুষের মাঝে বেশি আতঙ্ক বিরাজ করছে দেখতে পেলাম। আমার আর চাওয়া-পাওয়ার বেশি কিছু নেই। এখন চাকরির বাকিটা সময় রোগাক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারলেই নিজেকে ধন্য মনে করবো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code