দেশে লক্ষাধিক শিক্ষক পদ শূন্য ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে লক্ষাধিক শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। শিখন ঘাটতির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে দেশের প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক পদ শূণ্য রয়েছে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার। এমন পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ঠিকমতো ক্লাসও হচ্ছে না। তাছাড়া শিক্ষক স্বল্পতায় অনেক প্রতিষ্ঠানেই একজন শিক্ষককে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। শিক্ষক সঙ্কট নিরসবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তব কোনো উদ্যোগ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, তীব্র শিক্ষক সঙ্কটে দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই কোথাও প্রধান শিক্ষক, কোথাও বিজ্ঞান, গণিত ও তথ্যপ্রযুক্তি মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন ধরে ওসব শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান। পাশাপাশি পদ খালি থাকলেও নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রকট শিক্ষকসংকট।

সূত্র জানায়, দেশজুড়ে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৫৩১টি অনুমোদিত শিক্ষক পদ থাকলেও গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পৌনে ৪ লাখ শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৫৬ হাজার শূন্য পদ রয়েছে। তর মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ, প্রায় ২০ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অবশ্য অতিসম্প্রতি যোগদান করেছে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক। তারপরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য রয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার শিক্ষকের পদ। তাছাড়া দেশের ৬৯৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ৩৮৩টিতে। আর ৩ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের মোট ১৬ হাজার ৬০১টি পদের বিপরীতে ১৩ হাজার ১৯২ জন কর্মরত ছিলেন। আর শূন্য রয়েছে ৩ হাজার ৪০৯টি পদ। একইভাবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) বিশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ফলাফলে দেখা যায় ৬৭ হাজার ৮৭টি শূন্যপদের বিপরীতে মাত্র ১৮ হাজার ৩৯৯টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ১১ হাজার ৭১৩ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। ওই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় শূন্য থেকে যায় ৫৫ হাজার ৪৯৫টি পদ। তাছাড়া বর্তমানে আরো কিছু শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে। ওই হিসাবে কমপক্ষে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার। ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ১৯ হাজার ২০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৬৭ হাজার ১৩০টি পদের চাহিদা আসলেও যাচাই-বাছাইয়ের পর ৬৭ হাজার ৮৭টি পদের বিপরীতে আবেদন নেয়া হয়। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ছিলো যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা। ফলেঅনেক পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিবন্ধিত প্রার্থী বা আবেদনকারী না থাকায় নিয়োগের সুপারিশ করা যায়নি।

Manual6 Ad Code

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে দেশে পুরনো সরকারি ও জাতীয়করণ করা ৬৫৩টি কলেজ রয়েছে। ওসব প্রতিষ্ঠানে পৌনে ৪ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য। পুরনো সরকারি কলেজগুলোতে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত প্রভাষকের শূন্য পদের সংখ্যা ৬৫৬টি। আর সরকারি ও সদ্য জাতীয়করণ করা কলেজগুলোতে প্রভাষক পর্যায়ে ৩ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে ওসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কারণ অনেক বিষয় শিক্ষক না থাকলেও  শিক্ষার্থী রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের শিখন ঘাটতি নিয়ে শেষ করছে তাদের শিক্ষাবর্ষ।  এদিকে দেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিরাজ করছে তীব্র শিক্ষক সঙ্কট। অথচ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের পাশাপাশি ব্যাবহারিক প্রশিক্ষণও জরুরি। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা যন্ত্রপাতি ব্যবহার, হাতে-কলমে কাজ ও শিল্পকারখানার উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা সমপ্রসারণ। বর্তমানে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত ১৫ হাজার ৮৪৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে শূন্য ৮ হাজার ৪৮৬টি পদ। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি পদে শিক্ষক নেই। শূন্য পদের মধ্যে দুই হাজার ২০৪টিতে নিয়োগের সুপারিশ চেয়ে পিএসসিতে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদ পূরণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সমপ্রতি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের প্রায় ২ হাজার শূন্য পদ পূরণে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য। ওসব পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেয়া হলে তাদের আগের পদগুলোও শূন্য হবে। তখন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা আরো বাড়বে। এ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার ও সরকারি মাধ্যমিকের পদগুলো পূরণের জন্য মাউশি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পিএসসিতে নিয়মিত চাহিদা পাঠায়। তাছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকের পদ পূরণেও মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code