নওগাঁর রাণীনগর বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago
BenQ Corporation

Manual7 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

নওগাঁ :
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ৪ বছর হতে চললেও নওগাঁর রাণীনগরের আতাইকুলা গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী বধ্যভূমিতে আজোও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হয়নি। লাগেনি কোন আধুনিকতার ছোঁয়া। সংরক্ষণের অভাবে অযতœ আর অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে এই বধ্যভ’মি। গত ২০১৫ ইং সালে প্রধানমন্ত্রী আতাইকুলা বধ্যভ’মি সংরক্ষন ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীন নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ শহীদ পরিবার ও এলাকাবাসি।

পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ৫২ জন শহীদদের পরিবার এখনও পায়নি রাষ্ট্রীয় সম্মান। বধ্যভূমিটি শহীদ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের উদ্দ্যোগে কোন রকমে ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রেখেছে মাত্র। শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে এলাকাবাসীদেরও দাবী শহীদ পরিবারের এই বধ্যভূমি স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের।

Manual8 Ad Code

ওই দিনের নারকীয় ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েও বেঁচে যাওয়া আতাইকুলা গ্রামের সাধন চন্দ্র পাল ও নিখিল চন্দ্র পাল ওই দিনের করুন হত্যাযজ্ঞের কাহিনী অশ্রুসিক্ত নয়নে বর্ণনা করে বলেন, ১৯৭১ ইং সালের ২৫ এপ্রিল রোজ রবিবার সকাল ১০টায় ছোট যমুনা নদী পার হয়ে আসে একদল হানাদার পাক-বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধারা এই গ্রামে আছে বলে তারা সন্দেহ করে প্রথমে গ্রামটিকে ঘিরে ফেলে। প্রতিটি বাড়ী থেকে নগদ টাকা, স্বর্নালংকাসহ বাড়ীর নারী পুরুষকে ধরে নিয়ে ওই গ্রামের যোগেন্দ্রনাথ চন্দ্রের বাড়ীর উঠানে জড়ো করে। আর উঠানের পাশেই নারীদের এক ঘরে বন্দী করে রাখে। সেখানে পুরুষদের উঠানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করে ব্রাশ ফায়ারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এসময় একদল পাক হানাদার ঘরে ঢুকে একের পর এক নারীদের উপরে পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে তারা বিভিন্ন বাড়ীতে লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়। ব্রাশ ফায়ারে ওই গ্রামের ৬৮ জনের মধ্যে ৫২ জন ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। পাক হানাদার বাহিনী চলে যাবার পর লাশের স্তুপের মধ্য থেকে গুলিবিদ্ধ হয়েও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান প্রদ্যুত চন্দ্র পাল, সাধন চন্দ্র পাল ও নিখিল চন্দ্র পাল। ধন সম্পদের লোভে এরপরও আরো দুইবার পাক হানাদার বাহিনী আতাইকুলা গ্রামে হানা দিয়ে লুট-পাট ও নারীদের উপর নির্যাতন চালায়।

প্রদ্যুত চন্দ্র পাল জানান, ওই দিন তার বাবা, কাকা, জ্যাঠা এবং গ্রামের লোকজনের সাথে তাকেও সারিবদ্ধ করে ব্রাশ ফায়ার করে। মুহুর্তের মধ্যে প্রাণ হারায় ৫২ জন লোক। হানাদার বাহিনীরা চলে যাবার পর রক্তাক্ত ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লাশের মধ্য থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বের হয়ে সে তার বাড়ীতে যায়। সবাইকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়েছি। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলেও সরকারীভাবে কোন শহীদ পরিবার এখনও সাহায্য সহায়তা পায়নি। আজো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান ও বধ্যভুমি সংরক্ষণ করা হয়নি।

সাবেক মহিলা সাংসদ শাহীন মনোয়ারা হক ১৯৯৬ সালে নিজ উদ্যোগে কিছু অনুদান দিয়ে কোন রকমে ফলকে শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করলেও আর কোন কাজ হয়নি। বধ্যভূমিটি পরে আছে অযতœ আর অবহেলায়।

Manual4 Ad Code

শহীদ পরিবারের সন্তান গৌতম পাল জানান, সেই দিন ৫২ টি লাশ ৩ দিন পড়ে থাকার পর পাশের গ্রামের লোকজনরা এসে কোন রকমে ঘটনাস্থলের পাশেই মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখে। এরপর আমরা এখানে স্মৃতিস্তম্ভ ও সংরক্ষন করার জন্য জমি দান করেছি। এছাড়াও অনেক পথ অতিক্রম করে গত ১৫সালের মার্চ মাসের ১৫তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বধ্যভ’মি সংরক্ষন ও এখানে স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলার জন্য তার কার্যালয় থেকে একটি নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সেই নির্দেশনা আজোও বাস্তবায়ন করা নাই। এতে করে আমরা শহীদ পরিবারসহ স্থানীয়রা চরম হতাশ। অবিলম্বে সরকারি ভাবে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হোক এবং এই সব অসহায় সুবিধা বঞ্চিত শহীদ পরিবারগুলোকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা হোক বলে জোর দাবী এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবারদের সকল সদস্যদের।

Manual7 Ad Code

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ্যাড. ইসমাইল হোসেন বলেন, এই বধ্যভ’মি সংরক্ষন ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা আজোও বাস্তবায়ন না হওয়া খুব দু:খ্যজনক। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও দেশের প্রতি শহীদদের কি অবদান ছিলো তা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ও শত শত বছর টিকে রাখার জন্য অতিদ্রুত এই বধ্যভ’মিতে আধুনিকতার ছোঁয়া ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা অতিবও প্রয়োজন।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো: ইসরাফিল আলম বলেন, জেলার ৩য় বৃহত্তম বধ্যভ’মি এই আতাইকুলা বধ্যভ’মি। কি কারণে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা আজোও বাস্তবায়ন করা হয়নি তা আমার অজানা। তবে বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। বর্তমান সরকারই একমাত্র সরকার যে সরকার দেশ স্বাধীনের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে কাজগুলো করেছে এবং করে যাচ্ছে। তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। আমি আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই আতাইকুলা বধ্যভ’মি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করবে এবং এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code