

ডেস্ক রিপোর্ট: নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও কমিউনিটি উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কুইন্সের উডসাইডে কুইন্স প্যালেস পার্টি হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের স্বাগত জানান ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট-লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্যারেন গোপ, কুইন্স কাউন্টি সারোগেটস কোর্টের বিচারক ক্যাসান্দ্রা এ. জনসন, রিয়েল এস্টেট খাতের নেতা রব চৌধুরী, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ইন্সপেক্টর আদিল রানা ও ইন্সপেক্টর খন্দকার আবদুল্লাহ, জ্যাকসন হাইটস ইন্ডিয়ান মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শিব দাস এবং চিকিৎসক ও কমিউনিটি নেতা ডা. মোহাম্মদ এনামুল হক। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং, নিউ জার্সির ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপের কাউন্সিলওম্যান শেপা উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্যে কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং এ ধরনের আয়োজনের জন্য অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশি অভিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের অবদান ও অর্জন যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, টাইম টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু তাহের, তরিকুল ইসলাম মিঠুসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। রব চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশি অভিবাসীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অভিবাসীদের শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তাঁদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে বক্তারা ভোটাধিকার প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন এবং সবাইকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকজন প্রার্থীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজেদের পক্ষে ভোট চান। আয়োজকদের মতে, অভিবাসীদের পেশাগত সাফল্য, সামাজিক অবদান ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ব্যবসা, আবাসন, চিকিৎসা ও কমিউনিটি সেবায় অভিবাসীদের ভূমিকা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি জোরদার করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান ছাড়াও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।