

যুক্তরাস্ট্র অফিস ::: নিউইয়র্কে পানিতে ডুবে শ্যালক-ভগ্নিপতির মৃত্যু হয়েছে । গত ২৮শে আগস্ট বেলা ১টায় একটি লেকের পানিতে ডুবে তারা ইন্তেকাল করেছেন।
বাংলাদেশি আফরিদ হায়দার (৩৩) ও তার শ্যালক বাছির আমীন (১৮) পারিবারিক অবকাশকালীন সময়ে ছিলেন ।
স্থানীয় সময় রবিবার নিউইয়র্কের টাউন অব বেথেলের হোয়াইট লেকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের বাছির আমিন (১৮) কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পেড্ডা গ্রামের রুহুল আমিনের ছোট ছেলে। আর জামাতা আফরিদ হায়দারের (৩৩) গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে। এ দুর্ঘটনায় রুহুল আমিনের ছোট মেয়ে নাছরিন আমিন মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার দুপুরে নিউইয়র্কে বরুড়া উপজেলা এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুল হক আজাদ জানান, শনিবার রুহুল আমিন পুরো পরিবার নিয়ে টাউন অব বেথেলে অবসর যাপনে যান। রবিবার দুপুরে রুহুল আমিনের মেয়ের জামাই আফরিদ পাশের হোয়াইট লেকে গোসল করতে নামেন। এসময় হঠাৎ করেই আফরিদ পানিতে তলিয়ে যায়। দুলাভাই আফরিদকে বাঁচাতে শ্যালক বাছির পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের দুজনকে বাঁচাতে এগিয়ে যান রুহুল আমিনের ছোট মেয়ে নাছরিনও। এতে তিনজনই লেকের পানিতে তলিয়ে যায়।
তবে তাদের কেউ জানতেন না লেকে পানি এত গভীর, এতে সাঁতার না জানায় শ্যালক দুলাভাই উঠতে না পারলেও শ্যালিকা কোনো রকম বেঁচে যান। এ সময় লেকের পাড় থেকে মেয়ের জামাই, নিজের ছেলে-মেয়েকে বাঁচাতে ঝাপিয়ে পড়েন রহুল আমিনের স্ত্রী রাহেলা আমিনও। এতেও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, ইএমএস এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্টের অপারেশনের এক সেনা জানান, হোয়াইট লেকের তীরের কাছাকাছি পানি থেকে এ তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুজনকে নিউইয়র্কেই দাফন করা হবে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং স্বজন এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।