

ডেস্ক রিপোর্ট : নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির ট্রানজিশনাল টিমের বাংলাদেশী সদস্যদের সাথে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রেসক্লাবের আয়োজনে এক অনাড়ম্বর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদারের পরিচালনায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ রশীদ আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম।
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানির ট্রানজিশনাল টিমের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, আরমান চৌধুরী সিপিএ , শামসুল হক, কাজী ফৌজিয়া, তাজিন আজাদ ও ফারিহা আক্তার। অনুষ্ঠানে ট্রানজিশনাল টিমের সদস্য শাহরিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন আজকাল সম্পাদক শাহ নেওয়াজ, ক্লাবের সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান, আবু তাহের, উপদেষ্টা এবিএম সালেহ উদ্দীন, ফখরুল আলম, কাজী শামসুল হক, ড্রিস্টিক ৩৬ এর এসেম্ব্যালীওম্যান প্রার্থী মেরি জুবাইদা, আকবর হায়দার কিরন, প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, সুলতানা রহমান, সাপ্তাহিক প্রথম আলো নির্বাহী সম্পাদক মঞ্জুরুল হক, রিমন ইসলাম, টাইম টিভির সৈয়দ ইলিয়াস খসরু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ট্রানজিশনাল টিমের সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করেন নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ক্লাবের কার্যকরী কমিটির নব-নির্বাচিত সদস্যবৃন্দ।
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির ট্রানজিশনাল টিমের সদস্য আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া বলেন, আগামী পহেলা জানুয়ারিতে শপথ নিতে যাওয়া নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে কাজ করতে ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশিদের আবেদনের সংখ্যা কত তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তি পাওয়া গেলে তারা সিটি টিমে অন্তর্ভুক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজে হোয়াইট হাউসে বসে মেনশন করেছে বাংলাদেশি কমিউনিটি যেখানে বেশি সেখানেই মামদানি বেশি ভোট পেয়েছে। তার মানে বাংলাদেশি ভোটারদের আলোচনা এখন হোয়াইট হাউজেও হচ্ছে। এর সাথে হোয়াইট হাউস বাংলাদেশি ভোটারদের বার্তা পৌঁছে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যোগ্য লোক খুঁজতেছি সিটি হলে পাঠানোর জন্য। মামদানির নিকট ব্রুকলিন ও কুইন্সে একাধিক কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের দাবি করেছেন। তিনি মেরি জুবাইদাকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান। কমিউনিটি মিডিয়া মামদানিকে জয়ী করার জন্য প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন বলেও তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন আরমান চৌধুরী সিপিএ বলেন, মামদানির মেয়র হওয়াটা এত সহজ ছিল না। এর কারণ একটা শক্তিশালী গ্রুপ মামদানির বিপক্ষে কাজ করেছে। শুধু তাই নয় স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। এর সাথে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা একাট্টা হয়ে মামদানির বিরোধিতা করেছে। কিন্তু মুসলিম ও বাংলাদেশী ভোটারদের কারণে মামদানি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর মেয়র নির্বাচনে বাংলাদেশী আমেরিকানরা সবচেয়ে বেশি ভোট প্রদান করেছে। আর একারণেই আমরা ট্রানজিশনাল টিমের সদস্য হয়েছি। এটা আমাদের কোন ব্যক্তিগত কৃতিত্ব না। এটা গোটা কমিউনিটির কৃতিত্ব। আগামীতে আমরা যদি আরও বেশি ভোটার হই এবং ভোট প্রদান করি তাহলে আমাদের অবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
শামসুল হক বলেন, এই নির্বাচন শুধু আমেরিকাতেই নয় সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অথচ এই সিটিতে বসবাস কারীদের ব্যয়বহুল জীবনযাপন করে ।সিটিতে বসবাস খুবই ব্যয়বহুল । সিটিবাসীর জীবনযাপনের লাগাম সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। এর লাগাম টেনে ধরার জন্যই মামদানিকে জয়ী করে আমরা সিটি হলে পাঠিয়েছি।
ড্রাম এর কাজী ফৌজিয়া বলেন, ২০০৮ সালে এদেশে আসার পর থেকে নিরলস সংগ্রাম ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একাধিক নন প্রফিট অর্গানাইজেশন প্রতিষ্ঠা করেছি। ফলে মামদানির ট্রানজিশনাল টিমে আমরা ১২ জন বাংলাদেশী তাদের নিজ নিজ অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছি। এই অবদান আপনাদের সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীদেরও রয়েছে।
তাজিম আজাদ বলেন, আপনাদের সহযোগিতায় আমি প্রাইমারি স্কুল বোর্ডে সংযুক্ত হতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের দাবি ও কথা মেয়র নিশ্চয়ই শুনবেন। বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীরা বর্তমানে অনেক ভালো করতেছে এবং এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তারা ভবিষ্যতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে ইনশা আল্লাহ।
ফারিয়া আক্তার বলেন, সাশ্রয়ী ও আনন্দময় জীবন যাপন করার জন্য দীর্ঘদিন থেকে আমরা সংগ্রাম করে যাচ্ছি। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আদৌ হবে কিনা আমরা অনিশ্চিতার মধ্যে আছি। আমাদের বাংলাদেশী কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।