

যুক্তরাষ্ট্র অফিস
নিউ ইয়র্ক সিটির মিডটাউনে একটি অফিস ভবনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত পুলিশ অফিসারের নাম দিদারুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশি-আমেরিকান।
তিনি নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ৪৭তম প্রিসিন্টে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ অফিসার দিদারুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত একজন অভিবাসী, পরিবারের একমাত্র পুত্র, নিবেদিতপ্রাণ স্বামী এবং দুই সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে অন্ত:স্বত্তা। দায়িত্ব পালনের সময় শহর রক্ষায় তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম (৩৬) নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে তিন বছর ছয় মাস কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা এবং তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, “তিনি যেমন বেঁচেছেন, তেমনই বিদায় নিয়েছেন— একজন বীরের মতো।”
এদিকে দায়িত্বপালনকালে বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় প্রবাসী কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার ম্যানহাটনের একটি আকাশচুম্বী ভবনের ভেতরে অফিসে ঢুকে বন্দুকধারী গুলি চালায় এবং তারপর সে আত্মহত্যা করে।
স্থানীয় সময় সোমবার ম্যানহাটনের মিডটাউনে অবস্থিত একটি অফিস ভবনে এ গুলির ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে ব্ল্যাকস্টোন বিনিয়োগ সংস্থা এবং এনএফএলের সদর দপ্তর অবস্থিত।
পুলিশ জানিয়েছে, যে সন্দেহভাজন বন্দুকধারী এখন মৃত। তার কাছে গোপনে বন্দুক বহন করার লাইসেন্স ছিল। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুসারে, তার একটি মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিগত তদন্তকারী লাইসেন্সও ছিল।
এদিকে এ ঘটনায় নিহত পুলিশ অফিসারের নাম দিদারুল ইসলাম ফেসবুকে একজন লিখেছেন “আজ অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা জানাচ্ছি যে, নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ৪৭তম প্রিসিন্টে কর্মরত আমাদের প্রিয় ভাই, পুলিশ অফিসার দিদারুল ইসলাম আর আমাদের মাঝে নেই।
তার মৃত্যুর দিন: ২৮ জুলাই, ২০২৫। তিনি তার কর্তব্য পালন করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার এই আত্মত্যাগ আমাদের গর্বের হলেও, এই ক্ষতি আমাদের জন্য অপূরণীয়।
বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এটি একটি বেদনাদায়ক দিন। আমাদের এক সাহসী সন্তান, যিনি এই মাটিতে দাঁড়িয়ে অন্যের নিরাপত্তার জন্য জীবন বিলিয়ে দিলেন।
আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং তার পরিবার, সহকর্মী ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
Fidelis Ad Mortem — মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ত। দিদারুল ভাই, আপনি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।”