

সম্পাদকীয়: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। একে তো জ্বালানি তেল, পানি, গ্যাসের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে, তার ওপর যথাযথ যুক্তি ছাড়াই নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোয় হাহাকার চলছে। খোদ বিক্রেতারাই বলছেন, ভোজ্যতেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাইকারি দামে কিনতে গেলে রসিদ দেওয়া হয় না।
অধিক দামে পাইকারদের কাছ থেকে কিনে খুচরা বিক্রি করতে গেলে জনরোষের শিকার হতে হয়। ফলে তেল-চিনির মতো অনেক পণ্যই তারা বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার জনগণের কথা চিন্তা করছে না।
সিন্ডিকেটের প্রশ্রয় দিতে গিয়ে দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতিতে সরকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। কারও কারও অভিযোগ, সরকার মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করছে, সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যও এ দুর্নীতি থেকে বাদ যাচ্ছে না।
এর আগে সরকারের একাধিক মন্ত্রী সিন্ডিকেট থাকার কথা স্বীকার করলেও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা কতটা রয়েছে তা সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে জনদুর্ভোগ লাঘবে কোনো শক্ত পদক্ষেপের কথা তো উঠে আসেইনি, বরং সিন্ডিকেট ভাঙতে গেলে জনগণকেই ভুগতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
এমনিতেও আমাদের দেশে কারণে-অকারণেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে আমরা দেখে থাকি। কোনো অজুহাত পেলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কখনো রোজা, কখনো ঈদ বা কখনো জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে-পরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি যেন এক নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অশুভ প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। তবে এ প্রবণতা এখন বেড়ে গেছে মাত্রাতিরিক্ত হারে।