

নিউজ ডেস্কঃ
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে আগামীকাল সোমবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ২০ ডিসেম্বর (সোমবার) প্রথম দিন সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি-জাপার সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন।
তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসাবে প্রথমে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির পর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্রপতির সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
নির্বাচন কমিশন নিয়োগে আইন প্রণয়ন না হওয়ায় গত দুই বার রাষ্ট্রপতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সার্চ কমিটি গঠন করে ইসি গঠন করে আসছেন। গত দুই বারের মতো এবারের সংলাপ নিয়ে আশাবাদী নন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ। বিএনপি রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে দলটি এবারের সংলাপকে গুরুত্বহীন মনে করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ যে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছেন, এ বিষয়ে বিএনপি ‘কিছু জানে না’ বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রপতির এ সংলাপে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেলে বিএনপি যাবে কি না, এ প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘ আমি জানি না’।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংলাপে আমন্ত্রিত প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে সার্চ কমিটি ও পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করবেন রাষ্ট্রপতি। ইসির নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতির সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে। গত দুই বার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠন করে এসেছেন রাষ্ট্রপতি। গত দুই বারের সার্চ কমিটির প্রধান ছিলেন বর্তমান প্রধান বিচাপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সার্চ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। এর আগে আগামী জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে নতুন সার্চ কমিটি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি। সার্চ কমিটি রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ব্যক্তিসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নতুন কমিশন গঠনে সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করবেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য দুই জন, চার জন নির্বাচন কমিশনারের জন্য আট জনের নাম সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করবেন। রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত ১০ জনের নামের তালিকা থেকে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং চার জন নির্বাচন কমিশনার চূড়ান্ত করবেন।