পাথর ও বালুখেকােদের তাণ্ডবে বিলীন যাদুকাটার জমি

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

আকাশ চৌধুরী, যাদুকাটা (তাহিরপুর) সুনামগঞ্জ ঘুরে এসে

আব্দুল হান্নান একজন বৃদ্ধ। ৪০ বছর ধরে বসবাস করছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী পাড় এলাকায়। সেখানে তার দুই একর জমি ছিল। দুই বছর আগে তার ঘরসহ পুরাে জমি কেটে নিয়ে পাথর উত্তােলন করে প্রভাবশালীরা। এভাবে আব্দুল হান্নানের মতাে আরাে অসংখ্য মানুষের বাড়িঘর কেটে নিয়ে গেলেও তারা অসহায় সন্ত্রাসীদের কাছে। এসব ঘটনার তারা কােনাে বিচার পায়না। উল্টাে তাদের মামলা দিয়ে হয়রানি-নির্যাতন করা হয়। আর এভাবে দিনের পর দিন পাথর ও বালুখেকােদের তাণ্ডবে বিলীন হচ্ছে বহু জমি। অনুপযােগি হয়ে পড়ছে চাষের। ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ। প্রশাসনের শিথিলতার কারণে এমন ঘটনার সূত্রপাত বলে অভিযােগ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দােলনের।

স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মােশাররফ তালুকদারের ভাই মােশাহিদ তালুকদার ও হাজী আব্দুর রহিম নামের দুই গডফাদারের নেতৃত্বে যাদুকাটা হারাচ্ছে তার যৌবন। দখলবাজিতে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও যাদুকাটার দুই অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে আলাদা ভাবে। ইতােপূর্বে মোশাহিদ বাহিনীর নুরুজ আলী মেম্বার, হবিবুল হক, সামছুজ্জামান, মনির উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন গংরা সুনামগঞ্জের নোয়াপাড়ার পল্লি চিকিৎসক তোয়াজ আলীর জমি কেটে নেয়। একই বাহিনী নাজিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির জমি কেটে ক্ষান্ত হয়নি; তাকে মিথ্যে মামলায় জেলও খাটিয়েছে। এছাড়াও রইস মিয়া ও জমাদুর রহমানের জমিও কেটে নেয়। এরা বােমা মেশিনের মাধ্যমে

Manual2 Ad Code

জমির নিচে পাথর থাকায় বাড়ি ও জমিতে ছোট-বড় গর্ত করে পানি সেচে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে। এই বােমা মেশিন মাটির দেড়শ’ ফুট গভীর থেকে পাথর তুলতে পারে। কিন্তু বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের ফলে আশপাশের ভূমি ধসে গিয়ে মাটির স্তর বদলে দিয়েছে।

Manual5 Ad Code

জানা গেছে, যাদুকাটা-তীরবর্তী ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ তালুকদারের সঙ্গে রয়েছে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ঘনিষ্ঠ। সেই প্রভাবে মােশাররফের ভাই মোশাহিদ নির্বিঘ্নে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এসবের কেউ প্রতিবাদ করলে মামলার ভয় দেখানাের অভিযােগ রয়েছে মোশাররফের বিরুদ্ধে। তার ভাই জমি ও বসতঘর কেটে বাঁশপাড়া গ্রামে বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি। এর আগে টেকেরগাঁও গ্রামের মজিবুর রহমান প্রতিবাদ করায় তার বসতঘর পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে সেখানে বসবাস করছে হবিবুল হক নামের এক প্রভাবশালী।

স্থানীয় সূত্র মতে, মােশাররফ-মােশাহিদদের ক্ষমতার উত্থান মুলত ২০০৯ সাল থেকে। ওইসময় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মােয়াজ্জেম হােসেন রতন। অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তােলনের মাধ্যমে কাঁচা টাকার জায়গা হওয়ায় যাদুকাটা নিয়ে তারও কােনাে ভুমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। বরং তার নামে সেখান থেকে মােশাহিদ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উত্তােলিত হয়েছে কােটি কােটি টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, স্থানীয় মজিবুর রহমান, জামাল মিয়া, রানু মিয়া, মজিবুর, রহিমুদ্দিন, নাছির উদ্দিন, সাত্তার মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান, জসিম উদ্দিন, সামছুজ্জামান, নুরুজ আলী, হাবিকুল, রবিউল ও তাওহিদের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ চক্র এ টাকা উত্তােলন করে।

Manual2 Ad Code

এসব অভিযােগের বিষয়ে কথা বলতে তাহিরপুর উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি মােশাররফ তালুকদারের সেলফােনে একাধিক বার কল করা হরেও তিনি রিসিভ করেননি। তাকে ক্ষুধেবার্তা পাঠানাে হলেও জবাব দেননি। একই অবস্থা স্থানীয় সংসদ সদস্য মােয়াজ্জেম হােসেন রতনের ক্ষেত্রে। তার বক্তব্য জানার জন্য শনিবার বিকেলে দু’দফা তার ব্যক্তিগত সেলফােনে কল করা হয়। তিনি রিসিভ না করায় তাকে ক্ষুধে বার্তা পাঠানাে হলেও কােনাে সাড়া দেননি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দােলন (বাপা) সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কীম বলেন, আইন প্রয়ােগে প্রশাসনের শিথিলতার কারণে দীর্ঘদিন থেকে বালু ও পাথর উত্তােলনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী যাদুকাটা এলাকা ধ্বংস হচ্ছে। সেখানে নিয়মিতভাবে অভিযান চলা দরকার। এছাড়া সুনামগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিজস্ব একটি অফিসেরও প্রয়ােজন। তিনি বলেন, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্যর নামও জড়িয়ে আছে। এসব কারণেই কােনাে ভাবে সেখানে বালু ও পাথর উত্তােলন বন্ধ হচ্ছে না।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code