পানি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে ভুগছে লক্ষ্মীপুর বিসিক

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর :
পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে লক্ষ্মীপুর বিসিক। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য ২২ বছর পূর্বে গড়ে উঠেছে। মানব সম্পদ সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে শিল্পটি বর্তমানে সংকটের বেড়াজালে বন্দী হয়ে রয়েছে। সম্ভাবনা সত্ত্বেও লোকসানে মুখে এখন বন্ধ হওয়ার পথে কারখানাগুলো। এজন্য বিসিক কর্তপক্ষকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্ধ না থাকায় সমস্যা লাগব করা যাচ্ছে না।

বিসিক সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর শহরের বাঞ্চানগর এলাকায় ১৬.০৭ একর ভূমির উপর ১৯৯৭ সালে বিসিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে প্লট বরাদ্ধ দেওয়া হয়। অফিস, ড্রেনেজসহ অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের ৬.২৫ একর ভূমিতে নির্মাণে করা হয়। বাকি ৯.৯১ একর ভূমিতে তৈরী করা হয় তিন ক্যাটাগরির ১০০টি প্লট। তন্মধ্যে ৬১টি (প্রকল্প)ইউনিটের বিপরীতে এসব প্লট বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩০টি (প্রকল্প)ইউনিট চালু রয়েছে। ৪টি উৎপাদন জনিত কারণে বন্ধ রয়েছে। বাকি ২৭টি (প্রকল্প)’র মধ্যে অনেক ইউনিট সময়মত চালু না হওয়ায় বিসিকের উর্ধ্বতন ল্যান্ড এলেটম্যান্ট কমিটি (এলএসি) থেকে বাতিলের প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। আরো জানা যায়, শিল্পনগরীতে যেসব কারখানা গড়ে উঠেছে সেগুলোর মধ্যে বেকারী, ওয়েলমিল, জৈবসার কারখানা, সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অটো রাইচমিল, মবিল রি-প্যাকিং ফ্যাক্টরী, সামছুন্নাহার মাল্টি রিসাইক্লিংসহ চালু রয়েছে মাত্র ১৮ টি প্রতিষ্ঠান। বিস্কুট উৎপাদন বেকারী রয়েছে ১২টি। এসব কারখানায় বছরে প্রায় শত শত কোটি টাকা টার্নওভার হলেও, বর্তমানে যোগাযোগ ও ড্রেনেজ সমস্যার কারণে অধিক লোকসানে এ প্রতিষ্ঠান গুলো এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Manual8 Ad Code

বিসিক শিল্পনগরী সুলতানিয়া বেকারীর আবুল কাশেমসহ কয়েকজন শিল্প-উদ্যোগক্তা জানান, এটি নামেই শিল্পনগরী। এখানকার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা ছাড়াও শিল্পভিত্তিক গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের সুবিধার অভাবে উৎপাদন খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এজন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে না পেরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পথে। সমস্যাগুলো সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ না থাকায় নতুন উদ্যোগক্তারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে আগ্রহী হচ্ছে না।

Manual5 Ad Code

তারা আরো জানান, বিসিক এলাকায় সীমানা প্রাচীর নেই। নেই ল্যাম্পপোস্টগুলোতে বাতি। এতে নিরাপত্তায় ভুগছেন এখানকার মালিক-শ্রমিকরা। বিসিক কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর সার্ভিস চার্জ নিলেও সে অনুপাতে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘসময়য়ে লক্ষ্মীপুর বিসিক এলাকায় গড়ে উঠেনি উল্লেখযোগ্য শিল্প-কারখানা। বিসিকের প্রবেশ পথেই কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। ভিতরে ৭টি রাস্তার প্রতিটির বেহাল দশা। সড়কের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যেখানে পানি জমে পরিণত হয়েছে পুকুর। সামান্য বৃষ্টিতেই হাটু সমান পানি জমে। ফলে অনুপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থায় চলাচলে বিঘœ ঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় মালিকপক্ষ ও আগত ব্যবসায়ীদের। যাতায়াত করতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে মালবাহি গাড়ির চেসিসসহ যন্ত্রাংশ। এদিকে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো খুবই সরু। বিভিন্ন স্থানে কারখানার পরিত্যক্ত ময়লা ও বজ্রপদার্থ নিষ্কাশন না হয়ে জমে আছে। এ ড্রেনগুলো পরিচ্ছন্নতার অভাবে পুরো বিসিক এলাকা জুড়ে দূর্গন্ধে নর্দমায় পরিণত হয়ে আছে। এতে ছড়াচ্ছে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগজীবানু ।

Manual2 Ad Code

বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ রহিম জানান, যোগাযোগ, ড্রেনেজ সমস্যার পাশাপাশি এলাকার ল্যমপোষ্টগুলোতে নেই লাইট। রাতের বেলায় অন্ধকারে চলাচল করতে হয়। এখানকার নানাবিদ সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

জানতে চাইলে বিসিক শিল্পনগরীর উপ-ব্যবস্থাপক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, বিসিকে যে সমস্যা, সে তুলনায় বরাদ্ধ খুবই সামান্য। তাই সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না। বেহাল সড়ক সংস্কারের জন্য ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং ড্রেন ও কালবার্টের জন্য ৭৬ লাখ টাকার চাহিদা পত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চাহিদানুযায়ী বরাদ্ধ পেলে সমস্যা সমাধান করা হবে।

লক্ষ্মীপুর বিসিক প্লট বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক অঞ্চন চন্দ্র পাল জানান, এখানকার সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও যেসব উদ্যোক্তা প্লট বরাদ্দ নিয়ে উৎপাদনে যাচ্ছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code