পুলিশের লাঠিপেটায় পন্ড বিএনপির সমাবেশ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ  বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় দলটির পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পন্ড হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের শেষ পর্যায়ে সেখানে পুলিশের লাঠিপেটায় কমপক্ষে ১১৯ জন নেতাকর্মী আহত হন বলে দাবি করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ ছাড়া ওই কর্মসূচি থেকে দলের ২১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Manual2 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

তবে পুলিশ বলছে, বিএনপি নেতাকর্মীরাই উল্টো পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা সেখান থেকে ১৭ জনকে আটক করে। এ ছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে বাহিনীর ৭ সদস্যের আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

 

সংবিধান লঙ্ঘন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের অভিযোগে সম্প্রতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। এর প্রতিবাদে গতকাল ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি। অন্য সব মহানগরে পূর্বনির্ধারিত এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও ঢাকার সমাবেশ পন্ড হয় পুলিশের বাধায়।

 

Manual5 Ad Code

ওই সমাবেশে অংশ নিতে গতকাল সকাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সেখানে সকাল থেকেই জলকামান ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বেলা ১১টার পর বক্তব্য দিতে শুরু করেন বিএনপি নেতারা। সমাবেশের ফলে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বক্তব্যের শেষের দিকে পুলিশ তাদের সভা শেষ করতে বলে। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের ধস্তাধস্তি হয়। এরপর পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা শুরু করে। এতে দলটির কিছু কর্মী আহত হন। এ সময় বিএনপির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এর আগেই দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রেস ক্লাবের ভেতরে ঢুকে যান।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। এতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনসহ ১১৯ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২১ জন নেতাকর্মীকে শাহবাগ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

Manual7 Ad Code

 

পুলিশের লাঠিপেটার পর বিএনপির পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে পুলিশ। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’

 

তবে পুলিশ বলছে, বিএনপি নেতাকর্মীরাই উল্টো আগে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।’ তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি। এ ছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীদের ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের ৭ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন ওসি মামুন অর রশীদ।

 

জামুকার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন মোশাররফ হোসেনের : সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলে জামুকার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘জামুকার কোনো এখতিয়ার নেই খেতাব বাতিলের। সেই সময়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এই খেতাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসা করতে চাই তাদের নতুন করে কাউকে খেতাব দেওয়ার ক্ষমতা আছে কি না? এটা তাদের নেই। অতএব বাতিল করার ক্ষমতাও জামুকার নেই।’

 

জামুকার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। শেখ হাসিনার হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আজকে যখন জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে, তখন এই ষড়যন্ত্র। আমি সবাইকে আহ্বান জানাব, আগামী দিনে এই সরকারের পতনের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হোন। আজকে আমি সেই আন্দোলনের ডাক দিচ্ছি।’

 

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দেশটা কারও ভাষণে স্বাধীন হয় নাই, দেশটা স্বাধীন হয়েছে যুদ্ধের মাধ্যমে। সেই মুক্তিযুদ্ধের অপর নাম জিয়াউর রহমান। জিয়ার খেতাব নিয়ে আমরা ব্যবসা করি না, আমরা গর্ববোধ করি।’

 

দলমতনির্বিশেষে সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার খেতাব নিয়ে টানাটানি করুক, আর আমরা সবাই মিলে সরকারের গদিটা ধরে টান দিই। ওখান থেকে নামিয়ে নিতে পারলে সব হিসাব-নিকাশ একদিনে চুকে যাবে।’

 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও উত্তরের আবদুল আলীম নকীব। অন্যদের মধ্যে বিএনপি নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, যুবদলের সাইফুল ইসলাম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, ছাত্রদলের ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য দেন।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code