

সম্পাদকীয়: ১৮ মে ঘটনার পর নরসিংদী স্টেশনে আমরাই প্রথম দলবেঁধে গেলাম। খবরটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে প্রশংসা আসছে নানাদিক থেকে। অথচ আমার কাছে ব্যাপারটা দুঃখজনক। এই ডিজিটাল যুগে নয় দিন দীর্ঘ সময়। একজন নারী স্বাধীন দেশের উন্মুক্ত জনপরিসরে প্রকাশ্য দিবালোকে পোশাকের জন্য আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এরপর পুরো একটা সপ্তাহ কেটে গেছে, ঘরে বসে অনলাইনে অনেকে লিখছিলেন কী করা উচিত, অথচ কেউ সশরীরে প্রতিবাদ জানাতে সেখানে যাননি। এটা অদ্ভুত লাগছিল আমার।
একরকম বিতৃষ্ণা আর ক্ষোভ নিয়েই আমি একা নরসিংদী স্টেশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সেটা ২২ তারিখ। আক্রমণের পর চার দিন কেটে গেছে ইতোমধ্যে। আমার পরিকল্পনা ছিল পশ্চিমা পোশাক পরে রেলস্টেশনে গিয়ে ঘোরাঘুরি করা। কোনও সভা, সমাবেশ কিংবা স্লোগানের ইচ্ছা আমার ছিল না। আমি জানি, একজন স্বাধীন, নির্ভয় নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতিই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের জন্য ভীতিকর একটা ব্যাপার। প্রতিবাদ জানাতে তাকে কোনও স্লোগান দিতে হয় না, মাইকিং করতে হয় না। সে নিজের মতো করে চুপচাপ মাথা তুলে একটা জায়গায় দাঁড়ালেই মানুষ ভয় পায়, অস্বস্তিতে পড়ে যায়।
এই দৃশ্যমান উপস্থিতিই আমার প্রতিবাদের ভাষা। সেই উপস্থিতিটুকু নিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে আমি অপরাধস্থলে হাজিরা দিতে চেয়েছিলাম।