সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নিন

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual5 Ad Code

সম্পাদকীয়: ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে সারা দেশে এ পর্যন্ত ১৫ জনের প্রাণহানি এবং কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।
সোমবার সন্ধ্যা থেকেই দেশের উপকূলীয় এলাকায় শুরু হয় এর তাণ্ডব। প্রায় সারা রাত দেশের বিভিন্ন জেলায় তাণ্ডব চালিয়েছে এ ঘূর্ণিঝড়। সিত্রাংয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল-ভয়ংকর ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত। এটি অনেকটা আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। ভারি বর্ষণের কারণে দুর্বল হতে থাকে সিত্রাং। অন্যদিকে এটি তাণ্ডব চালানোর শক্তিও হারাতে থাকে। প্রবল বর্ষণের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা শহরের বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়।
প্রায় ৯ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের কারণে বহু স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চলের শত শত গ্রাম তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি। ভেসে গেছে ঘেরের মাছ। নষ্ট হয়েছে ফসল। পানির নিচে চলে গেছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের অনেক এলাকা। এছাড়া ঝড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়কের গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন গুদামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হলে সেখানে এতটা ক্ষয়ক্ষতি হতো না। এখন প্রয়োজন ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে সারা দেশে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো। যাদের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
বারবার ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ কতটা জরুরি। বহুদিন আগে নির্মিত উপকূল রক্ষার কাঁচা বাঁধ এখন নাজুক হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে ঘূর্ণিঝড়ে যেসব বাঁধ ভেঙে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো এখনো টেকসইভাবে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। বস্তুত এখন সংস্কার বা মেরামতের চেয়েও বেশি জরুরি উপকূলজুড়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা। ভৌগোলিক ও বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। এ কারণে টেকসই বাঁধ নির্মাণ জরুরি। সরকারকে এদিকে দৃষ্টি দিতে হবে অবিলম্বে। সিত্রাংয়ের প্রভাব পড়েছে রাজধানীতেও। সোমবার দিনভর বৃষ্টি হয়েছে নগরীতে। এতে সকাল থেকেই দুর্ভোগের কবলে পড়েন নগরবাসী। সারা দিনের বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অনেক এলাকা যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code