প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত করতে হবে। কেননা দেরি হলে ব্যয় যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি জনগণও সঠিক সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরে বাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানান।

Manual1 Ad Code

সভায় পাঁচটি নতুন প্রকল্প এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বারবার কেন প্রকল্পগুলোর সংশোধন করতে হয় এটা যেন বারবার না হয় সেটা দেখতে হবে। হাওর এলাকায় রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে উড়াল সড়কের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে পানি চলাচলের পাশাপাশি সড়কও টেকসই হয়। পুলের মতো করে সড়ক করতে হবে। সেই সঙ্গে গ্রাম অঞ্চলে ব্রিজ ও কালভার্ট এমনভাবে করতে হবে যাতে নিচ দিয়ে নৌকা চলাচল করতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকার আশপাশে সাধারণ গরিব মানুষের জন্য বিনোদনকেন্দ্র তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ৯টি জেব্রার মৃত্যুর বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। বরিশাল সেনানিবাসের স্থাপনাগুলো নির্মাণে সতর্কতার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, স্থাপনা নির্মাণে খেয়াল রাখতে হবে যাতে জোয়ারের পানি চলাচল করতে পারে।

Manual2 Ad Code

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেক সভায় দেশে একটি নতুন ইউরিয়া প্ল্যান্ট স্থাপনের ৭২৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আলোচনার সময় একনেকের সদস্যরা অভিমত দেন, দেশীয় কারখানা স্থাপন করার পাশাপাশি, যেসব দেশে কম মূল্যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়, সেখানে আমরা গিয়ে ইউরিয়া কারখানা স্থাপন করতে পারি, যা অধিক লাভজনক হতে পারে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় হলো, আমাদের সারের চাহিদা রয়েছে, কিন্তু উত্পাদন করতে গেলে গ্যাসের সংকট হয়। ফলে বিদেশে সার কারখানা নির্মাণে দেশের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারবেন। সেই সার দেশে ব্যবহার করা যায় কি না, সেই সম্ভাবনাটা বেসরকারি খাত উন্মোচন করতে পারে। উদ্যোক্তারা চাইলে বাইরের দেশেও সার কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে গ্যাসের সংকট কমবে এবং বিদেশে বিনিয়োগও বাড়বে। তবে দেশের স্বার্থ যেন আগে রক্ষা হয়, সে বিষয়টি উদ্যোক্তাদের নিশ্চিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক সভায় পাঁচটি নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্পে বাড়তি বরাদ্দ মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ৩ হাজার ৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

নতুন পাঁচটি প্রকল্প হলো, ১০৬ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প, ২০০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, ১ হাজার ৮০৩ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্লাড অ্যান্ড রিভারবাংক ইরোশন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (প্রজেক্ট-২) শীর্ষ প্রকল্প, ৭২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) প্ল্যান্ট স্থাপন প্রকল্প এবং ১১৩২ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় বিটাকের ছয়টি কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প।

Manual2 Ad Code

সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নেত্রকোনা-বিপিউড়া-ঈশ্বরগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ১ম সংশোধনী অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে ২২০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির  ২৬১ কোটি ১৯ লাখ টাকায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার লক্ষ্য ছিল। এখন ৪৮১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ১ম সংশোধনী অনুমোদন হয়েছে। ২০২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। এখন ৫৯ কোট ২১ লাখ টাকা বাড়িয়ে এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সময় ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ (সংশোধিত ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ ও চারটি পাসপোর্ট অফিস ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ) প্রকল্পের ১ম সংশোধনী অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে ৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮৭ কোটি টাকা। মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২১ সালের জুনে। এখন ১২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়াদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শেখ হাসিনা সেনানিবাস বরিশাল স্থাপনা প্রকল্পের ১ম সংশোধনী অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে ৩৩১ কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। এখন ২০৩০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুরের অ্যাপ্রোচ সড়ক প্রশস্তকরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩য় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় সংশোধনী থেকে এর ব্যয় ৩ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। ৭০ কোটি টাকা ৩২ লাখ টাকার প্রকল্পটি এখন ২৪২ কোটি ৬ লাখ টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code