প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াই একমাত্র প্রতিষেধক

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual8 Ad Code

সম্পাদকীয়: কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার। এবার দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন ৬ জন।

Manual4 Ad Code

শুক্রবার আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও আরাকান রহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, নিহতদের সবাই আরসার সদস্য। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের ডেকে আনতে গিয়ে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এক যুবক রোহিঙ্গা মাঝি (নেতা)। আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম আসাদ আহমাদ খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

শুক্রবারের ঘটনা সম্পর্কে ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএন পুলিশ ও রোহিঙ্গা সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন ভোরে আরসার ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টে আসে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ঘুমন্ত আরএসও সদস্যদের ওপর হামলা করা। কিন্তু আরএসও সদস্যরা আগে থেকেই হামলার খবর পেয়ে ভারী অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত হয়। আরসার সদস্যরা ক্যাম্পে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে এলোপাতাড়ি গুলি করে আরএসও’র প্রশিক্ষিত সদস্যরা। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির সময় ঘটে হত্যাকাণ্ড।

Manual7 Ad Code

শুধু দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণেই নয়; ইয়াবা পাচার ও হাটবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে। চলছে অস্ত্রের মহড়াও। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের হত্যাকাণ্ড ছাড়াও ২১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

Manual4 Ad Code

এমনকি পাহাড়ে আস্তানা গেড়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অপহরণের ঘটনাও ঘটাচ্ছে। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক, সেটা চায় না সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো। তাই প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই রোহিঙ্গা শিবিরে বেড়ে যায় সন্ত্রাসী তৎপরতা। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যাতে বাস্তবায়িত না হয়, সেজন্য বিভিন্ন ক্যাম্পের মাঝি বা নেতাদের টার্গেট করছে আক্রমণকারীরা। এ কারণে রোহিঙ্গা নেতাদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শিবিরের বাইরে নিরাপদ জায়গায় বাসা ভাড়া করে থাকছেন ।

Manual2 Ad Code

সম্প্রতি চীনের চাপের কারণে মিয়ানমার পাইলট প্রকল্পের আওতায় এক হাজারের কিছু বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসাবে ৮ মার্চ মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও আসিয়ানের কয়েকটি দেশসহ আট দেশের কূটনীতিকদের রাখাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮ দেশের ১১ কূটনীতিককে মিয়ানমারের মংডু ও সিটওয়ে শহরে অন্তর্বর্তীকালীন ক্যা¤পসহ আশপাশের এলাকাও দেখানো হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code