

সম্পাদকীয়: ভারত সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন। এ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘প্রতিবেশী কূটনীতি’র রোল মডেল হিসাবে অভিহিত করেছেন। দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দুদেশের ও আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালাতে আমরা একমত হয়েছি।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বর্ধিত বাণিজ্য সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইস্যু, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার প্রতিরোধে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। দুই নেতার বৈঠকের পর দুদেশের মধ্যে ৭টি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এগুলো হলো-সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের অধীনে কুশিয়ারা নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি প্রত্যাহার বিষয়ে সমঝোতা, বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বিষয়ে ভারতের বিজ্ঞান ও শিক্ষা গবেষণা পরিষদের সঙ্গে বাংলাদেশের বিএসআইআরের মধ্যে একটি সমঝোতা, বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে ভারতের ভূপালে অবস্থিত ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমির মধ্যে সমঝোতা, ভারতের রেলওয়ে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোতে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য দুই দেশের রেল মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা, বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যপ্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য ভারত ও বাংলাদেশের রেল মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা, ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘প্রসার ভারতী’র সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি সমঝোতা এবং বিটিসিএল ও এনএসআইএলের মধ্যে মহাশূন্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক একটি সমঝোতা।
এ সম্পর্ক উত্তরোত্তর ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। তবে এটাও ঠিক, দুদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকলেও কিছু বিষয়ের মীমাংসা হয়নি এখনো। এগুলোর মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি, সীমানা ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করা যায়। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ব্যাপারে অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খুব শিগ্গির এ চুক্তি স্বাক্ষর হবে।