প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান দগ্ধদের স্বজনরা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :

আমাদের আর কিছু চাওয়ার নেই। স্বজন হারানোর বেদনায় আমাদের বুক ভারী হয়ে আছে। মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে অনেকে। বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে নিহতদের স্বজনদের বেশিরভাগ সদস্য। উপার্জনশীল পরিবারের সদস্যকে হারিয়ে এমনও ঘর আছে যার বাড়িতে এখন গ্যাসের চুলা পর্যন্ত জ্বলছে না। অভাবে রয়েছে তারা। কারো দুই সন্তান হারিয়েছে। কারো বাবা ও সন্তান দু‘জনেই মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তল্লা বোম্বার মাঠে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে তাদের দুঃখ-দুর্দশা কথা তুলে ধরেন। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও জেলা প্রশাসকসহ স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ও স্থানীয়রা যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নিহত আহতদের স্বজনদের হয়ে অগ্নিদগ্ধে নিহত মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকের বড় ছেলে ফাহিদ ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত-আহতদের স্বজনরা এখনো কোনো সরকারি সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা সেবায় খোঁজ খবর নেয়া এবং সকলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা।

সেদিনের ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা দিয়ে তিনি আরো বলেন, মসজিদের মোয়াজ্জেম নিহত দেলওয়ার নিজে একাই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দুজন আহতকে মসজিদ থেকে বের করেছেন এবং যে পর্যন্ত তার জীবন ছিল সে পর্যন্ত নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করে অন্যান্য আহত মুসল্লিদের খবর নিয়েছেন।

Manual8 Ad Code

স্বজনদের পক্ষ থেকে তিনি দাবি করেন, স্বজনরা যা হারিয়েছে তা আর ফিরে পাবে না। কিন্তু বেশিরভাগ পরিবারের সদস্যরা উপার্জনশীল ব্যক্তিকে হারিয়েছে। সাত বছরের যুবায়ের ও তার বাবা জুলহাস মারা গেছে। যুবায়েরের মা রহিমা বেগম আজ একা।

তিনি আহত নিহতদের পারিবারিক সামর্থ্যের কথা উল্লেখ করে জানান, তল্লা এলাকাটি নিম্মবিত্ত একটি এলাকা। যারা মারা গেছেন বা আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বেশিরভাগই দিন আনে দিন খায়। তাই আমাদের দাবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন প্রত্যেকটি পরিবারের কর্মসংস্থানের একটি ব্যবস্থা করে দেন। অথবা আমারা শুনেছি হাইকোর্টে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার আমাদের পরিবারের পক্ষ হয়ে প্রত্যেক পরিবারের জন্য ৫০ লাখ ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করেছে সেটি বাস্তবায়ন করা হোক।

Manual3 Ad Code

পরিবারের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, দগ্ধ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজে সরসারি রোগীদের চিকিৎসা বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। এমনকি সবার চিকিৎসা ফ্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন রোগীদের পরিাবরকে দিয়ে নানা ওষুধ ব্যান্ডেজ, মলম, হ্যান্ড গ্লাভস ও ড্রেসিং এর সরঞ্জাম ক্রয় করানো হচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নজরে বিষয়টি আনার দাবি জানাচ্ছি।

কথাগুলো বলার সময় স্বজনদের চোখে অশ্রু ঝরছিল। এ সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য চোখে পড়ে।

Manual5 Ad Code

নিহত ও আহত স্বজনদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন-নিহত সাব্বিরের মা পারুল বিবি, কুদ্দুস ব্যাপারির মেয়ে সোমা, সাংবাদিক নাদিমের ছেলে নাসির আহমেদসহ প্রমুখ।

তল্লা মসজিদে গত শুক্রবার এশার নামাজের পর গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৩৭ জন অগ্নিদগ্ধ হয়। এতে ২৭ জন নিহত ও বাকি ১০ আহত হন। আহদের চিকিৎসা ঢাকা মেডিক্যালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে এখনো চলছে।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code