প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ ও প্রতিকার

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রণিধানযোগ্য কারণ হিসেবে পবিত্র কুরআনে আমরা দেখি যে, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবেই দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে। যেমন, আল্লাহ বলেন- ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে ও স্থলে বিপর্যয় দেখা দেয়। যার ফলে আল্লাহ তাদের কিছু কিছু কৃতকর্মের ফল প্রদান করে থাকেন, যেন তারা পাপ থেকে ফিরে আসে।’ (সুরা রুম : ৪১)। অথচ, আল্লাহ তাআলা নিজ গুনে মানুষের নানাবিধ অপরাধ ক্ষমা করে দেন। তিনি বলেন- ‘তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তাতো তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন’। (সুরা আশ-শুরা: ৩০)।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হলো জলবায়ুর অনভিপ্রেত পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবেশের বৈরিতা। তারা পরিবেশের এই বৈরিভাবের জন্য দায়ী করে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর প্রভাবকে। প্রশ্ন হলো, পৃথিবীর উষ্ণায়ন কেন হচ্ছে। এই উষ্ণতা বাড়ার মূল কারণ গ্রিনহাউজ গ্যাসের ইফেক্ট ও উর্ধ্বাকাশে ওজোনস্তরের ঘনত্ব কমে যাওয়া। আটারো শতকের শিল্প বিপ্লবের পর থেকে মানুষের ব্যবহার্য নানান যন্ত্রপাতি ও কলকারখানাসমূহকেই দায়ী করেন বিজ্ঞান। এক কথায়, মানুষের তৈরি করা প্রযুক্তির প্রত্যক্ষ কারণেই প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেয়। অর্থাৎ এখানেও মানুষই একমাত্র দায়ী। পবিত্র কুরআনেও একই প্রসঙ্গই উঠে এসেছে। সুতরাং আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য দায়ী করতে পারি মানুষের কর্মকাণ্ডকে আর উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে বলতে পারি–

১. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন

শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও মিথেনসহ নানা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হয়ে বাতাসে মিশছে, বায়ুমণ্ডলে এসব গ্যাস, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের বার্ষিক গড় দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪১০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন), ১৮৬৬ পিপিবি (পার্টস পার বিলিয়ন) ও ৩৩২ পিপিবি।

ফলে, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা আশংকাজনক বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর ঠিক এই কারণেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয় পরিবেশ, যা কুরআনের ভাষ্যমতে স্বভাবতই মানুষের হাতে কামাই করা।

২. পাপকাজ বৃদ্ধি পাওয়া

বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য উন্নতির ফলে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিতে যথেষ্ট অগ্রগতি যেমন হয়েছে তেমনি এর অনিয়ন্ত্রিত ও যথেচ্ছা ব্যবহার মানুষকে নানা ধরণের নতুন নতুন অপরাধে সংযুক্ত করছে। এমনকি, নানা ধরণের পাপ-পঙ্কিলতা প্রয়োগ সহজ হওয়াই অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, হত্যা, দুর্নীতি, জালিয়াতি, সুদ-ঘুষ ইত্যাদি ক্রমাগত বেড়েই চলছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচার উপায়:

১. তাওয়াক্কুল করা:

মুসলমানদের সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) রাখা উচিত। তিনি বলেন- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক: ৩)।

২. ধৈর্যধারণ করা:

Manual6 Ad Code

যে-কোনো বিপদে ধৈর্যধারণ করা মু’মীনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মহান রব বলেন- ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান, মাল ও ফলফলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫)।

Manual4 Ad Code

৩. বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা:

Manual7 Ad Code

তাওবা ও ইস্তিগফার সম্পর্কে কুরআনে এসেছে- ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সমীপে খাঁটি তওবা করো, এই আশায় যে তোমাদের প্রভু তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন আর তোমাদেরকে এমন উদ্যানসমূহে উপবিষ্ট করবেন যার নিম্নদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত থাকবে।’ (সুরা আত-তাহরিম: ০৮)।

এছাড়া, মহানবি (সা.) বলেন, ‘শিগগিরই মহান আল্লাহকে স্মরণ করো, তাঁর কাছে তওবা করো।’ (বুখারি: ২/৩০; মুসলিম: ২/৬২৮)।

৪. সাদকা করা:

সাদকা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে- ‘নিশ্চয়ই সাদকা অপমৃত্যু রোধ করে।’ (তিরমিজি: ৬৬৪; ইবনে হিব্বান: ৩৩০৯)। অপমৃত্যু বলতে ওইসব মৃত্যুকে বোঝানো হয়েছে যা থেকে স্বয়ং নবীজি (সা.) পানাহ চেয়েছেন। তা হলো- ‘পানিতে পড়ে, আগুনে পুড়ে, ওপর থেকে পতিত হয়ে, যুদ্ধ থেকে পলায়নরত অবস্থায় বা এ ধরনের কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করা। হঠাৎ মৃত্যুকেও কেউ কেউ অপমৃত্যু বলেছেন।’ (মেরকাত : ৪/১৩৪১)।

৫. সচেতনতা অবলম্বন করা:

Manual1 Ad Code

ইসলামে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য জোর তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। বাড়ি-ঘরের আসবাবপত্র দেওয়ালের সাথে এমনভাবে হুক/স্টিকার দিয়ে লাগিয়ে রাখতে হবে যাতে ভুমিকম্পে সেসব গড়িয়ে না পড়ে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দুর্যোগের সময় কে কোন দায়িত্ব পালন করবে সেটা বণ্টন করে দিতে হবে, ফাস্ট এইড বক্স, ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখাসহ সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, সতর্কতা অবলম্বন করো।’ (সুরা নিসা: ৭১)।
এছাড়া হাদিসে এসেছে- ‘ইমানদার ব্যক্তি একই গর্তে দুইবার দংশিত হয় না।’ (বুখারি: ৬১৩৩)।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code