প্রাণঘাতি করোনা নিয়ন্ত্রণে এনে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

সম্পাদকীয়: কোভিড মহামারীর কারণে এ তিন খাতের মধ্যে দুটিতে বিপর্যয়ের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে এবং সেবা খাত থেকে আমাদের স্থূল জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) সিংহভাগ আসে, কোভিডের কারণে সেবা খাতের আয় অনেক কমে গেছে। ফলে আমাদের অর্থনীতি বড় বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কাজটা সহজ নয়। এখানে সময় একটি বড় ভূমিকা রাখবে। একদিনের বিপর্যয় আরেক দিনের মধ্যেই পুষিয়ে নেয়া যায় না। তাই বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ পর্যন্ত আমাদের যা ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যাবে। আমরাও মনে করি, অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যাওয়া উচিত। বিনিয়োগের সঙ্গে যেহেতু কর্মসংস্থানের বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত, সেদিকে নজর দিয়ে সরকার গেল সপ্তাহেই একটি কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ নিয়েছে। দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে বড় ধরনের ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। এখন থেকে বিদেশি মুদ্রা (এফসি) অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ব্যতিরেকেই খরচ করা যাবে। মুনাফার টাকা পুনঃবিনিয়োগ করতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে না, কেবল অবগত করালেই চলবে। দ্বিতীয় সুবিধাটি হল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই মুনাফার অংশ বিদেশে নিয়ে যাওয়া যাবে, সেক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শুধু অবগত করালেই চলবে। বন্দর ও অবকাঠামো ব্যবহারেও ছাড়ের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। আগে বিদেশি কর্মীরা তাদের বেতনের ৫০ শতাংশ বিদেশে নিয়ে যেতে পারতেন, এখন তা বৃদ্ধি করে ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৬১ কোটি ডলার। পরিমাণটি ২০১৭ সালের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি ছিল; কিন্তু আঙ্কটাড মনে করছে, ২০২০ সালে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৬ শতাংশ কমে গিয়ে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬০ কোটি ডলারে। ফলে বাংলাদেশকে এ নিয়ে ভাবতেই হবে। বাংলাদেশ কেন বিদেশি বিনিয়োগকে আকর্ষণ করতে পারছে না, তা নিয়ে কমবেশি গবেষণা হয়েছে। আমরা যদি সেসব আলোচনাকে সমন্বিত করি তাহলে একটি তালিকা তৈরি করা যাবে। আমাদের দেশে বিদেশি বিনিয়োগের অনীহার এক নম্বর কারণ হচ্ছে দুর্নীতি। এর বাস্তবতাও আমরা দেখতে পাই। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যখনই বাংলাদেশের দুর্নীতির অবস্থান জানান দেয়, তখনই সরকারি উপর মহল থেকে সেটাকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছজ্ঞান করা হয়। শুধু তা-ই নয়, তাচ্ছিল্য করে অনেক রকমের কটূক্তিও করা হয়। সরকার বিনিয়োগের অন্তরায়গুলোকে আমলে নিয়ে পর্যায়ক্রমে সমাধানের পথ খুঁজবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code