সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে সিটির জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় আয়োজিত ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক আজকাল-এর প্রধান সম্পাদক মনজুর আহমদ, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক আজকাল-এর সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক মিজানুর রহমান, ভয়েস অব আমেরিকার নিউইয়র্ক প্রতিনিধি আকবর হায়দার কিরন, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ সিরাজুল ইসলাম ও মনোয়ারুল ইসলাম, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাক-এর বিশেষ প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম, প্রথম আলো’র রওশন হক প্রমুখ।
সমাবেশে মনজুর আহমদ বলেন, যেখানে সাংবাদিকরা আমন্ত্রিত, সেখানে কেনো সাংবাদিকের উপর হামলা? এটা কি ঢাকা? এখানে কি ডিজিটাল আইন রয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যেখানে সাংবাদিকের উপর হামলা হলো, সেখানে নেতৃবৃন্দ মঞ্চে বলে নির্বিকার ভ’মিকা পালন করলেন, কি আশ্চর্য? তারা কোন বাধা দিলেন না, প্রতিবাদ করলেন না। এবার সাংবাদিকদেরই রাজনীতিকদের বিষয়ে নির্বিকার থাকতে হবে।
নাজমুল আহসান সাংবাদিক ফরিদ আলমের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমেরিকার মতো দেশে যদি সাংবাদিকরা নিরাপদ না থাকেন তাহলে তা দু:খজনক। ঐদিন যেসকল আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছে তাদেরকেও ঐ ন্যাক্কারজনক ঘটনার দায় নিতে হবে এবং তারা দায়িত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তাদের সকল সংবাদ কভার করা ঠিক হবে না।
কৌশিক আহমেদ বলেন, আমি খুবই ক্ষুদ্ধ, আমি এতোই ক্ষুব্ধ যে প্রতিবাদ জানানোর ভাষা নেই। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জনিয়ে বলেন, সাংবাদিক ফরিদ আলমের উপর হামলা মানেই আমার উপর হামলা। কারণ ফরিদ আলম যে কাজ করেন, আমিও সেই কাজ করি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকরা তাকে তুলোধুনো করে মাথা উচু করে বেরিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা এগিয়ে নিতে হলে সাবাইকে একই ছাতার তলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
আবু তাহের বলেন, আমার প্রতিবাদের ভাষা নেই। অতীতে যখন একজন সাংবাদিকের গালে চর মারা হলো তখন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ হলে আজ ফরিদ আলমের উপর হামলা হতো না। তিনি বলেন, যে দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সর্বাধিক গুরুত্ব, সেদেশে এসে এভাবে সাংবাদিকের উপর হামলা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনাটি জঘন্য কাজ। আমরা ফরিদ আলমের সাথে আছি। সাংবাদিকদের অনৈক্যের সুযোগেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।
ডা. ওয়াজেদ এ খান বলেন, এটি অত্যন্ত দু:খজনক যে দায়িত্বশীল একটি রাজনৈতিক দলের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের উপর হামলা হয়েছে, প্রকাশ্যে নাজেহাল করা হয়েছে, গায়ে হাত তোলা হয়েছে। এই ঘটনার দায়-দায়িত্ব সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাদের। আমেরিকা আইনের দেশ। সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে।
জাকারিয়া মাসুদ বলেন, একজন সাংবাদিকের উপর আক্রমণ মানে সকল সাংবাদিকের উপর আক্রমণ। এই দেশ বাক স্বাধীনতার দেশ। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মুখের উপরেও কথা বলা যায়। আমাদের সমাবেশ দেশ, প্রধানমন্ত্রী বা আওয়ামী লেিগর বিরুদ্ধে নয়। আমাদেও সমাবেশ তাদের বিরুদ্ধে যারা ফরিদ আলমের উপর হামলা চালিয়েছে। আমরা তাদের বিচার চাই।
মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, আমরা কোন রাজনৈতিক দলের লোক না। ফরিদ আলম একা নয়, আমরা সবাই ফরিদ আলমের পাশে। ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
মিজানুর রহমান ঐ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটা বাংলাদেশ নয়, আমেরিকা। আমেরিকার মতো জায়গায় সাংবাদিকরা নিরাপদ না থাকলে কোথায় আমরা নিরাপদ থাকবো। তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে উল্লেখ করে বলেন, সাংবাদিকরাই তাদের মেধার বিনিময়ে ২৪ ঘন্টা পরিশ্রম করে আপনাদের নেতা বানান, অথচ তারাই সাংবাদিকের উপর হামলা চালায়।
আকবর হায়দার কিরণ বলেন, আমি খুবই মর্মাহত। অসভ্যতার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানাই। যারা সাংবাদিকের উপর হামলা করেছে তাদের জুতাপেটা করা উচিৎ। তিনি সাংবাদিকের ঐক্যের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের পরিচয় আমরা সাংবাদিক। আমরা কোন দলের পরিচয় বহন করি না। অতিথি করে হামলার জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়াগুলো বিগত ৪০ বছর ধরে কমিউনিটির সার্ভিস দিয়ে আসছে, অতীতে এমন ঘটনা ঘটেনি।
মনোয়ারুল ইসলাম তার বক্তব্যে তিন দফা দাবী উত্থাপন করে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের মর্যাদা ও পেশার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার আহŸান জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দাবী না মানা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ/সহযোগী সংগঠনের অনুষ্ঠান বর্জন থাকবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মসূচী বর্জনের আওতায় থাকবে না।
মীর ওয়াজেদ এ শিবলী বলেন, ভবিষ্যতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা যাতে আর ঘটে তার জন্য সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে।
শহীদুল ইসলাম বলেন, ফরিদ আলমের উপর হামলার দায় আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। এটা কোন কর্মী সভা ছিলো না। আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডেকে নিয়ে হামলা চালানো তাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, অদূরদর্শীতা। এই সাহস তারা কোথায় পায়। যারা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন না, তাদের উচিৎ রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়া।
মঞ্জুরুল হক যুক্তরাষ্ট্র অওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
রওশন হক বলেন, দাওয়াত দিয়ে হাত তুললেন এটা মেনে নেয়া যায় না। কারা এই হামলা করেছেন তাদের বিচার চাই, অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এদিকে সাংবাদিক ফরিদ আলম যুক্তরাষ্ট্রের আইনে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ঘটনার দিন ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেছেন এবং ঐ রাতেই স্থানীয় এলমহার্স্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের জ্যামাইকার বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন। হামলার সময় আওয়ামী কর্মীদের ছিনিয়ে নেয়া তার ফোন পাওয়া গেলেও মানিব্যাগ পাওয়া যায়নি। মানিব্যাগে ৪ হাজার ডলার ছাড়াও আইডি ও ব্যাংক কার্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিলো বলে ফরিদ আলম জানান।
