

মান্দা (নওগাঁ):
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কামারকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা নিমাই চন্দ্র মহন্ত। তিনি মাত্র পাঁচ শতাংশ জমিতে নার্সারি করে জীবনের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছেন। এই সামান্য জমিতে রোপণ করেছেন বিভিন্ন ফুল, অর্কিড ও ঔষধি গাছ। এইচএসসি পাসের পর অর্থের অভাবে নিমাইয়ের আর পড়াশোনা করা হয়নি। এরপর একটি ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে ৪ বছর চাকরি করেন। পরে নিজে কিছু করার উদ্দেশ্যে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন। ১৯৯৩ সালে প্রথম গাছ লাগানো শুরু করেন। পরে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
নিমাই চন্দ্র মহন্ত বলেন, ‘আমি ১৯৮৩ সালে বাড়িতে একটা হাসনাহেনা গাছ লাগাই। গাছে ফুল আসার পর চারদিকে বেশ সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাড়ির সঙ্গে সামান্য ৫ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন ফুলের নার্সারি করি। নার্সারিতে ক্যাকটাস, অর্কিড, অ্যাডিনিয়াম, গোলাপ ও অ্যালোভেরাসহ বিভিন্ন ফুল ও ঔষধি গাছ লাগাই। নার্সারির নাম দেই “বটতলা নার্সারি”।’ তিনি বলেন, ‘মান্দা সদর উপজেলার আত্রাই নদীর তীর সংলগ্ন কামারকুড়ি গ্রাম। নদীর তীরে বড় একটি বটগাছ আছে। ওই বটগাছের নামে নার্সারির নাম রাখা হয়েছে “বটতলা নার্সারি”।’ নার্সারিতে আছে ফুল, পাতাবাহার, অর্কিড ও ঔষুধি গাছসহ বিভিন্ন জাতের গাছ।
নিমাই চন্দ্র মহন্ত জানান, তিনি ১৯৮৩ সাল থেকে নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া সামান্য জমিতে নার্সারিটি করেছেন। বিভিন্ন বই পড়ে ও কিছু অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনমতো পরামর্শ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, জীবন-জীবিকার তাগিদে নার্সারিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। ফুল ও ঔষুধি গাছের চারাগুলো ঢাকা, বগুড়া ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। ঢাকার ব্যবসায়ীরা অনেক সময় বাগানে এসেও কিনে নিয়ে যান। এছাড়া বিভিন্ন মেলায় ফুলের গাছ নিয়ে অংশ নিই। আর এখান থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার খরচের পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার খরচ চলে যাচ্ছে। আমার কাছে অনেকেই আসে নার্সারি করার জন্য। আমি তাদের পরামর্শ দেই।
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, ‘নিমাই চন্দ্র মহন্ত আজ নার্সারি ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হয়েছে। তাকে দেখে অনেকেই নার্সারি করছে। আমরা কৃষি অফিস থেকে সব সময় তাদের পরামর্শ দিয়ে আসছি।’