

ডেস্ক রিপোর্ট: শরৎকালীন ছুটি শেষে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরে সোমবার কিছু হাই স্কুল অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছে। ছুটির মধ্যে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন ছাড় সত্ত্বেও আন্দোলনের গতি আরও জোরদার করতে বদ্ধপরিকর শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো শিক্ষার্থীসহ কয়েক লাখ মানুষ ফ্রান্সজুড়ে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করার পর এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। পড়াশোনার পরিবেশের অবনতি ও বৈষম্যের প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বরে হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের দেশব্যাপী আন্দোলন থেকে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিবিরোধী এই বৃহৎ বিক্ষোভের সূচনা হয়। সরকার ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন, শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রতি ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়াসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। তবে কিছু শিক্ষার্থীর মতে, এই পদক্ষেপগুলো মোটেও যথেষ্ট নয়। দক্ষিণের শহর মার্সেইতে সোমবার সকালে একটি হাই স্কুলের প্রবেশদ্বারের সামনে কয়েকটি ময়লার স্তূপ ও ডাস্টবিন জমিয়ে রাখা হয়। একটি ময়লার ডাস্টবিনের ওপর দাঁড়িয়ে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মরিয়ম এএফপি-কে বলে, ‘আমরা আবারও আন্দোলন শুরু করেছি কারণ আমাদের দাবি পূরণ করা হয়েছে বলা হলেও তা স্পষ্টতই যথেষ্ট নয়।’ শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জফ্রে জানিয়েছেন, ফ্রান্সের ৩,৭০০টি হাই স্কুলের মধ্যে কেবল সামান্য কিছু প্রতিষ্ঠানে অবরোধ পালন করা হয়েছে-যার বেশিরভাগই প্যারিস এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে। ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এড়াতে ক্লাসে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বছরের শেষে উচ্চ মাধ্যমিক (বাকালোরেয়া) পরীক্ষায় বসবে এমন লাখো শিক্ষার্থী চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ ধরে ক্লাসে অনুপস্থিত।’ প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ‘তরুণদের কথা শোনা হয়েছে’ উল্লেখ করে পরিস্থিতি শান্ত রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্স বর্তমানে মন্দার মুখে দাঁড়িয়ে আছে এবং ঋণ কমানোর চাপের মধ্যেও রয়েছে। যার কারণে অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি মেটানোর মতো সুযোগও সীমিত।