বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন হবে বিশ্বব্যাপী

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব জুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। গত সোমবার ইউনেস্কোর সদর দপ্তর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত পাশ হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের সঙ্গে ইউনেস্কো যুক্ত হওয়ায় মুজিববর্ষ উদ্যাপনকালে দেশ জুড়ে নানা কর্মসূচি পালনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন আরো ব্যাপক পরিসরে অবহিত করার সুযোগ সৃষ্টি হলো।

 

Manual4 Ad Code

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) আগামী বছর বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করবে। গণভবনে প্রস্তুতি কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনে গঠিত জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Manual4 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, গত সোমবার প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে সংস্থাটির ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে মুজিববর্ষ উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী বিশ্বের ১৯৫টি দেশে উদ্যাপন হবে।

 

ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি আলতে সেনজাইজারের সভাপতিত্বে এবং ইউনেস্কো মহাপরিচালক মিজ অদ্রে আজুলে, বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং বিভিন্ন কমিটি ও কমিশনের চেয়ারপারসনদের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত পাশ হয়।

Manual3 Ad Code

 

জানা যায়, ইউনেস্কো শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। ৫০ বছর বা এর গুণিতক যে কোনো বার্ষিকী যদি ইউনেস্কোর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে ঐ দিবস যৌথভাবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই হিসেবে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষের বিশ্বস্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এর ফলে ইউনেস্কো বা এর ১৯৫ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বা দ্বিপাক্ষিকভাবে এই দিবসটি পালন করতে পারবে বাংলাদেশ।

 

গতকালের সভায় আরো জানানো হয়, বছরব্যাপী অনুষ্ঠেয় ‘মুজিব বর্ষ’র জাতীয় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন হবে আগামী ১৭ মার্চ রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে।

 

সভায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অনুষ্ঠান আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত হতে হবে। বঙ্গবন্ধু এই মাটির সন্তান, কাজেই এ অনুষ্ঠান কোনো রংচটা অনুষ্ঠানে রূপ নিতে পারবে না।’

 

সভার শুরুতে জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার সাহায্যে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী ১৭ মার্চ বিকাল ৪টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ফ্লাইপাস্ট, ১০০ শিল্পীর অংশগ্রহণে যন্ত্রসংগীত, বাংলা এবং ইংরেজিতে থিম সং পরিবেশন, ৫৫ মিনিটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং লেজার শো।

 

তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধুর ছোটো কন্যা শেখ রেহানার হাতে ‘শ্রদ্ধা স্মারক’ তুলে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন। কামাল আব্দুল নাসের বলেন, পাশাপাশি কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন।

 

জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. গওহর রিজভী, ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং সালমান এফ রহমান, আসাদুজ্জামান নূর এমপি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানের ১০০ দিনের কাউন্ট ডাউন শুরু হবে বলেও সভায় জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কাউন্ট ডাউনের উদ্বোধন করবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code