

সম্পাদকীয়:
বিগত সরকারের আমলে দেশের ব্যাংক খাতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে এ খাতে জাল-জালিয়াতিসহ লুটপাট হয়েছে। লুটপাটকারীরা ঋণের নামে আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি তা বিদেশে পাচারও করেছে। ওই সময় বিতরণকৃত ঋণ ও ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদ আদায়ে বিঘ্ন ঘটেছে, এমনকি উলটো সুদ মওকুফের ঘটনাও ঘটেছে। এতে ব্যাংকগুলোর আয় কমেছে। ব্যাংকগুলোর মোট আয়ের সিংহভাগই আসে বিতরণ করা ঋণ ও অন্যান্য সম্পদ থেকে।
এ খাতে আয় গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে চলে গেছে। গত ১৮ বছরের মধ্যেও এ খাতের আয় এখন সর্বনিম্নে। এছাড়া মূলধন থেকেও আয় কমেছে। এদিকে ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে মূলধন রাখার হারও কমেছে। কয়েকটি ব্যাংকে তারল্য সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বস্তুত ব্যাংকগুলোর আয়ের সিংহভাগই আসে সম্পদ থেকে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিতরণ করা ঋণ, বিনিয়োগ, ধার দেওয়া অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসা।
২০১৩ সালে প্রকাশ পায় বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা। এ ঘটনায় ৬ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এসব ঋণও পর্যায়ক্রমে খেলাপি হয়। এরপর একের পর এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। বস্তুত গত ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক খাতের ওপর দিয়ে বলা যায় সুনামি বয়ে গেছে। কাজেই এ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যা যা করণীয় সবই করতে হবে। ব্যাংকের কর্মীরা যাতে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।