

বদলগাছী (নওগাঁ) ঃ
নওগাঁর বদলগাছীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইটভাটা জ¦ালাচ্ছেন মালিকেরা। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইঁভাটায় কাটা হচ্ছে ইট ও জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ। ফলে একদিকে যেমন করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, পাশাপাশি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ এবং হুমকির মুখে পড়ছে ফসলি জমি।
উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ইটভাটা রয়েছে মোট ২৯টি। এরমধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র তিনটির। বাকি ২৬টি ইটভাটা চলছে অবৈধভাবে। এদের না আছে কোনো লাইসেন্স, না আছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটায় কাজ করছেন ৮০-১০০ জন শ্রমিক। করোনা ভাইরাস নিয়ে এদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বলে কিছুই নেই। তাদের চিন্তা একটাই কাজ না করলে খাব কী । অধিকাংশ ইটভাটাতেই জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ। প্রশাসনকে দেখানোর জন্য কয়লাও রাখা হয়েছে। কিন্তু পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে একদিকে যেমন বৃক্ষনিধন হচ্ছে, অন্যদিকে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
অন্যদিকে এ সকল ইটভাটা গুলো গড়ে উঠেছে তিন ফসলি জমি ও আবাসিক এলাকায়। ফলে ফসলি জমি হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে ও অন্যদিকে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য।
ইট পোড়ানো (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন আইনে বলা হয়েছে আবাসিক এলাকা, উপজেলা সদর, ফলের বাগান, ফসলি জমি, বনাঞ্চল, লোকালয় ও জনবসতি এলাকার মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।
কিন্তু কেউ-ই মানছে না এই আইন। দিনের পর দিন এভাবেই চলে আসছে ইটভাটা ব্যবসা। নির্বিকার প্রশাসন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এইসব ইটভাটা মালিকরা অনেক প্রভাবশালী। তারা টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে। আবার আশেপাশের জমির মালিকদের টাকার লোভ দেখিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যায় ইটভাটাতে। ফলে দিন দিন ফসলি জমি কমে যাচ্ছে।
উপজেলার পাহাড়পুর ইউপির মেসার্স আদিল ব্রিকস্ এর ম্যানেজার রাব্বি বলেন, করোনার কারণে ইটভাটা বন্ধ করলে শ্রমিকরা খাবে কী? তাই আমরা ভাটা চালাচ্ছি। তবে দুই এক দিনের মধ্যে বন্ধ করে দেব।
এমবিএফ ইটভাটার ম্যানেজার চঞ্চলের কাছে কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ইটভাটার মালিক এনামুলের সাথে কথা বলতে বলেন। এমবিএফ নামের দুটি ইটভাটার মালিক এনামুলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
উপজেলার খোজাগারি গ্রামের সততা বিক্্রস এর অংশীদার বকুল বলেন, দুই তিন দিনের মধ্যে ভাটা বন্ধ করা হবে। কাঠ কেন পোড়াচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে চলে যান।
ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান, সমিতির পক্ষ থেকে আমরা সব ইটভাটা মালিককেই নতুন নতুন ইট কাটতে বন্ধ করতে বলেছি এবং সবাই বন্ধ করেছে। কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দুই তিনটা ইটভাটা আছে যারা গোপনে কাঠ পোড়ায়। কিন্তু অধিকাংশ ইটভাটা জ¦ালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করে।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃ আবু তাহির বলেন, ইটভাটা মালিক সমিতিকে নিষেধ করেছি শ্রমিকদের এখন কাজ না করাতে। কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যায় কাজ করলে কেউ-ই ছাড় পাবে না। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে খুব দ্রুত এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।