বন্যা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেই

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রতি বছর বাংলাদেশে বন্যার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় লক্ষ লক্ষ মানুষকে। চলতি বছর ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। ইতোমধ্যে জুনের শেষ দিকে শুরু করে সিলেট, ফেনী ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা সৃষ্টি হয়। এছাড়া চলতি জুলাই মাসের শুরুতে গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইসহ দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন অঞ্চলগুলোর লাখো বাসিন্দা। এদিকে এবারের বর্ষায় ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে বন্যার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাইয়ে। তবে এবার বৃষ্টির পরিমাণ অন্য বছরের তুলনায় বেশি হবে এবং এই মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা হতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে এ বন্যা পরিস্থিতি তীব্র হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে বন্যা নিয়ন্ত্রণে যেসব পদক্ষেপ দেখা যা সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র হতে স্বল্প মেয়াদী হিসেবে ৫ দিন এবং মধ্যমেয়াদী হিসেবে ১০ দিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া হয়ে। বন্যার ক্ষতি ও প্রতিকূল প্রভাব কমাতে ও অতিরিক্ত পানি সেচকাজে ব্যবহারের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঁধ তৈরি ও খাল খনন করা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশে যে বৃষ্টিপাত হয়, সৃষ্ট বন্যায় সেটার প্রভাব কম। আমাদের দেশের নদীগুলোর উৎপত্তিস্থল ভারত ও মিয়ানমার। সেখানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আমাদের দেশে বন্যা হয়। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয়ে জুলাইয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়, ফলে এই পানির চাপ আমাদের এখানেও আসে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আমাদের দেশে এখনো স্বাভাবিক বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে। দেশে যে বৃষ্টিপাত হয়, সৃষ্ট বন্যায় সেটার প্রভাব কম। আমাদের দেশের নদীগুলোর উৎপত্তিস্থল ভারত ও মিয়ানমার। সেখানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আমাদের দেশে বন্যা হয়। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয়ে জুলাইয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে এই পানির চাপ আমাদের এখানেও আসবে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের একজন প্রকৌশলী বলেন, এখন যেহেতু বর্ষা মৌসুম, তাই প্রতি বছরই এ সময়ে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বন্যা হয়। আমাদের গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর অববাহিকার মাত্র ১০ শতাংশ বাংলাদেশে। ৯০ শতাংশের বেশি পানি আসে ভারত থেকে। বর্ষা মৌসুমে এই পানি আসার প্রভাবে বন্যা পরিস্থিতি তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর বন্যা হওয়াটা এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দেশে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যায় কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল, আন্তসীমান্ত নদীর পানি, অপরিকল্পিত অবকাঠামো, নদী দখল ও টেকসই বাঁধের অভাবে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। বন্যার মধ্যেই মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। বন্যার পূর্বাভাসে শুধু নদণ্ডনদীর পানি বাড়া-কমা ও বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হবে কি না এটাই বলে। কিন্তু কোন এলাকায় কোন ফসলের ক্ষেত ভাসবে, কোন গ্রাম তলিয়ে যাবে, এগুলোর তথ্য আমাদের কাছে নেই। অথচ আমরা জানি প্রতি বছর দেশে বন্যা হবে। জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী এম জাকির হোসাইন খান বলেন, বর্ষায় বন্যা এখন দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে। বন্যা কখন আসবে, কী পরিমাণে পানি আসবে, কোন চ্যানেল দিয়ে আসবে- এ তথ্যটা আমরা যথাযথভাবে পাঁচ্ছি না। ভারত কোন সময় পানি ছাড়বে, আবার কোন সময় আটকাচ্ছে, সেটা নিয়ে আমাদের যৌথ নদী কমিশন কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখে না। বন্যা কখন আসবে, কী পরিমাণে পানি আসবে, কোন চ্যানেল দিয়ে আসবে- এই তথ্যটা আমরা যথাযথভাবে পাঁচ্ছি না। ভারত কোন সময় পানি ছাড়বে, আবার কোন সময় আটকাচ্ছে, সেটা নিয়ে আমাদের যৌথ নদী কমিশন কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখে না। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন নতুন ঝুঁকি আসছে। বৃষ্টিপাত বাড়ছে, কিন্তু বন্যার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। আমরা এখনো আদিকালের মতো বন্যা ব্যবস্থাপনা করছি। বন্যার পর কৃষি অধিদপ্তরকে তাদের কাজ করতে হবে। একইভাবে মৎস্য অধিদপ্তর ও এলজিইডিকে তাদের কাজ করতে হবে। শুধু ত্রাণ দিয়ে বন্যা ব্যবস্থাপনা হবে না। বন্যার কারণগুলো নির্ধারণ করে সেগুলো বন্ধে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরিফ জামিল গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের নদীগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও জলাশয়কে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। পরিবেশগত অধিকার বিবেচনা না করে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আমাদের আইনে কিন্তু আছে প্লাবন অঞ্চলের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু দেখা যায়, রেললাইন ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে, অথচ সেটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহের সঠিক জায়গা রাখা হয় না। একইভাবে অপরিকল্পিত কালভার্ট নির্মাণ করায় এবং নদীর ড্রেজিং না করায় পানি লোকালয় থেকে বের হচ্ছে না। আমরা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প করে প্লাবন অঞ্চলগুলো ভরাট করে ফেলেছি। আমাদের নদীগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও জলাশয়কে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। পরিবেশগত অধিকার বিবেচনা না করে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আমাদের আইনে কিন্তু আছে প্লাবন অঞ্চলের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু দেখা যায়, রেললাইন ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে, অথচ সেটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহের সঠিক জায়গা রাখা হয় না। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হচ্ছে। এই পানিগুলো নামার যে জায়গা আছে, সেটা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সিলেটে বন্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের রাস্তা। এই রাস্তাগুলো পানি বের হওয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ে গাছপালা নিধনের কারণে পানি সরাসরি চলে আসছে। নদীগুলো ড্রেজিংও হচ্ছে না। এসব বিষয়ে সরকারের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতি নেই। ফলে বছর বছর বন্যায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, আমরা তো দুর্যোগ নিয়ে সচেতন করি। সচেতনতা নিয়ে আমাদের অনেক প্রকল্প রয়েছে। বন্যা ও এর নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কাজ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বন্যা হলে আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ত্রাণ থেকে শুরু করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সব ব্যবস্থা করে থাকি।

Manual5 Ad Code

সুত্র:এফএনএস ডটকম

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code