বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

 গোপালগঞ্জ  :

Manual3 Ad Code

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউ‌জি‌সি) থেকে ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন দাবীতে চলমান আন্দোলনের ১১তম দিন বিক্ষোভে উত্তাল রয়েছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিহাস বিভাগের অনুমোদনের দাবীতে চলমান আন্দোলন ও পরবর্তী কর্মসূচী নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এদিকে, আন্দোলন বন্ধ করতে শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রতিদিনের মত রবিবারও সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেখানে বসে আন্দোলন শুরু করে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের শ্লোগানে কম্পিত হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। লাগাতার আন্দোলনে বিশ্ববিদালয়ের সকল ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা মেরে দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন দেয়াসহ যৌক্তিক দাবী না মানা পয্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষনায় অনঢ় রয়েছে আন্দোলনকারীরা।

ইতিহাস বিভাগের অনুমোদনের দাবীতে চলমান আন্দোলনের ১১তম দিনে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী কারিমুল হক ও আবতাবুজ্জামান।

শিক্ষার্থী কারিমুল হক বলেন, ১১দিন পর হলেও তাদের যৌক্তিক দাবী মানা হয়নি। আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিয়ে বসেছিল। তারা আন্দোলন স্থাগিত বা শিথিল করতে বলেছেন। কিন্তু আমাদের দাবী না মানা পয্যন্ত আন্দোলন বন্ধ করব না।

Manual6 Ad Code

তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেয়া হয়েছে। তারপরেও আন্দোলন বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা নানাভাবে হুমকী দিচ্ছে। তারা হলের রান্না, সকল কাজবন্ধ করারও হুমকি দিচ্ছে।

সম্মেলনে শিক্ষার্থী আবতাবুজ্জামান নানা কর্মসূচী ঘোষনা করে বলেন, আজ রোববার সন্ধ্যা ৭টায় মশাল মিছিল করবে। এছাড়া আগামীকাল সোমবার ১১টার বিক্ষোভ মিছিল, মঙ্গলবার অবস্থান কর্মসূচী, বুধবার সাদা কাপড় পরিধান কর্মসূচী পালন করা হবে। সেই সাথে দাবী আদায় না হলে বৃহস্পতিবার থেকে আমরন অরশনের ঘোষনা দেন।

এদিকে, আন্দোলন বন্ধ করে ক্লাশে ফিরে যাবার জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত ভিসি মো: শাহজাহান, প্রক্টর রাজিউর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন শিক্ষকেরা।। কেউ কেউ দল বেধে ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠেন।

বশেমুরবিপ্রবির প্রক্টর রাজিউর রহমান বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। সর্বশেষ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ১৮ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ডেকে একটি আলোচনা সভার আহ্বান করেছেন। এ বিষয়িটি নিয়ে আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করেছি। আমরা তাদের আহবান করেছি আন্দোলন থেকে সড়ে এসে  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কায্যক্রমে ফিরে আসুক। আমরা আহ্বান জানানোর পরও তারা আন্দোলনে রয়েছে। আমরা আশা করছি অচলাবস্থা দ্রুত কেটে যাবে।

Manual1 Ad Code

প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) অনুষ্ঠিত এক সভায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন না দিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না করার নির্দেশ প্রদান করে। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ওইদিন রাত থেকে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে এ বিভাগটিতে ৪১৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code