বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ কিনবে ভারত ভুটান সৌদি নেপাল

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব, নেপাল, ভুটান ও ভারতের সেভেন সিস্টারস নামে খ্যাত সাত রাজ্য। আনুষ্ঠানিকভাবে ভুটান ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য প্রস্তাব দিয়েছে, অনানুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব ও নেপাল। বিষয়টি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এতে উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স¤প্রসারণের লক্ষ্যে তৃতীয় সাবমেরিন কেব্ল্ স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় সৌদি আরব, ভারত, নেপাল ও ভুটানের ব্যান্ডউইথ কেনার বিষয়টি উঠে আসে একনেক সভায়। গতকাল মঙ্গলবার একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা একনেক সভায় অংশ নেন। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে ৬৯৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা খরচে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সভাশেষে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম সাংবাদিকদের সামনে প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল্ কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত সংযুক্ত ঝঊঅ-গঊ-ডঊ-৬ সাবমেরিন কেব্ল্টি ভারত মহাসাগর, আরব সাগর, লোহিত সাগর হয়ে ভূ-মধ্যসাগর অবধি বিস্তৃত হবে। কেব্ল্টির কোর ল্যান্ডিং স্টেশন হবে সিঙ্গাপুর, ভারত, জিবুতি, মিসর ও ফ্রান্সে। বাংলাদেশের ব্রাঞ্চটি বঙ্গোপসাগর হয়ে কক্সবাজারের কেব্ল্ ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বিধায় প্রকল্প এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটি নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী খুশি হয়েছেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। সৌদি আরব কিভাবে ব্যান্ডউইথ নেবে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ থেকে সৌদি-ভারত-নেপাল-ভুটান ব্যান্ডউইথ কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। একনেকে এ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কী বলেছিলেন, এ প্রশ্নের জবাবে জ্যেষ্ঠ সচিব শামসুল আলম বলেন, ‘আমাদের ইন্টারনেটের চাহিদা প্রতি বছর ৭০ শতাংশ বাড়ছে। আমাদের একটি সাবমেরিন ২০২৫ সালের পর অকেজো হয়ে যাবে বা মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে এই প্রকল্পটি এখনই গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত খুশি হয়েছেন যে, এমন একটি প্রকল্প যথাসময়ে আনা হয়েছে। এটা দিয়ে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।’

Manual6 Ad Code

শামসুল আলম আরো বলেন, ‘আমাদের পূর্বাঞ্চলে যে সেভেন সিস্টার্স রয়েছে, সেখানে কিছু কিছু ব্যান্ডউইথ সার্ভিস আমরা তাদের দিচ্ছি। এটা আমরা দিতে থাকব। ভুটান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে তারা আমাদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের একটা সুযোগ আছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের। আইসিটির সচিব জানিয়েছেন, সৌদি আরবও ব্যান্ডউইথ আমাদের কাছ থেকে নিতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন তারা কিভাবে নেবে, আমরা মূল লাইন থেকে দেব নাকি কক্সবাজার থেকে? তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বলেছেন, মূল লাইন থেকে সৌদি আরবকে দিতে পারব। এটি বোধহয় আমাদেরকে অপেক্ষায় থাকতে হবে যে, তারা কিভাবে নেয় বা আমরা কিভাবে দিই। সেভেন সিস্টার্স ও ভুটানের বিষয়টা নিশ্চিত হয়েছে, আমরা তাদেরকে যথাযথভাবে সেবা দেব।’

Manual5 Ad Code

উল্লেখ্য, ‘ডিজিটাল সংযোগের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আনা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ২ হাজার ৫৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সংশোধনীতে ৭৪১ কোটি ৫৪ লাখ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩ হাজার ৩১৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়েছে। ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংশোধনীতে মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

Manual1 Ad Code

এই সিনিয়র সচিব আরো বলেন, প্রতিদিন দেশেও ব্যান্ডউইথের চাহিদা বাড়ছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালে একটি সাবমেরিন কেব্ল্ অকেজো হয়ে যাবে। এ জন্য সময়োপযোগী একটি প্রকল্প হাতে নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী খুশি হয়েছেন। প্রকল্পের আওতায় সাবমেরিন কেব্ল্ ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে স্থাপন করা হবে। ১৩ হাজার ২৭৫ কিলোমিটার কোর সাবমেরিন কেব্ল্ স্থাপনসহ ১ হাজার ৮৫০ কিলোমিটার ব্রাঞ্চ সাবমেরিন কেব্ল্ স্থাপন করা হবে।

৩ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল সংযোগের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ (১ম সংশোধিত) অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে ড. শামসুল আলম বলেন, ইন্টারনেট সেবা দুর্গম এলাকায় নিয়ে যেতে বিটিসিএলকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু নগরে নয়, হাওর-বাঁওড় ও পাহাড়ি এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে তিনি বিটিসিএলকে নির্দেশ দিয়েছেন।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code