বাংলাদেশে করোনা টিকা ও তৎপরতা  

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual3 Ad Code
মাহফুজ আদনান :: 
প্রথম টিকা আসার সময় মানুষের দোটানা লক্ষ্য করা গিয়েছিলো। নেবো না নেবো না।ধীরে ধীরে মানুষের মানসিকতার উন্নতি হয়। সময় মতো সবাই টিকা দিতে শুরু করেন। দিয়েছেন প্রথম ডোজ এবং দ্বিতীয় ডোজ। ইন্ডিয়া টিকা দেয়া বন্ধ করে দেয়ায় টিকা নিয়ে নিয়ে সাধারন মানুষ ও সরকার পড়ে বিপাকে। অনেকে এ্যস্ট্রোজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ  নিতে পারছেন না। তারা আছেন দো-টানায়। যদি টিকা পাওয়া না যায় তাহলে অন্যটা দেয়া হলে কি সমস্যা হবে? অথবা তারিখ মতো না দিলে কি সমস্যা হবে? এটা আসলেই একটা জটিল প্রশ্ন। দেশের মিডিয়াগুলো এসব ব্যাপারে আবশ্যকীয় প্রচারে মনে হয় অনাগ্রহী। প্রচার হলে মানুষ সুবিধা অসুবিধাগুলি বুঝতে পারতো জানতে পারতো!
করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে দেশের সব মানুষকে পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় আনার যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী, তা অভিনন্দনযোগ্য। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় দেশবাসীকে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে গত বছরের নভেম্বরে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি অনুযায়ী যথাসময়ে তা দিতে না পারায় বিকল্প হিসাবে রাশিয়ার গামালিয়া ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত স্পুটনিক-ভি এবং বৃহস্পতিবার চীনের সিনোফার্মের বিবিআইবিপি-সিওআরভি জরুরি ব্যবহারে জন্য অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বলা প্রয়োজন, এ মুহূর্তে করোনামুক্ত বিশ্ব পেতে চাইলে প্রয়োজন অন্যূন ৭ বিলিয়ন কার্যকর ভ্যাকসিন। অথচ বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র দেড় বিলিয়ন ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। যদিও এ ক্ষমতা দ্বিগুণ করে ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন করা হয়েছে; তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রয়োজনের তুলনায় এটি একেবারেই অপ্রতুল। বাংলাদেশ ভ্যাকসিনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাত্র ৩ শতাংশ ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা দিয়েছে। দেশবাসীর চাহিদা অনুযায়ী বাদবাকি ভ্যাকসিনপ্রাপ্তি  নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ ও অন্তরিকতা নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়। সরকারকে দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থাকেও  দেখতে হচ্ছে। টিকার বিষয়টি নিয়েও সরকার সচেতন। কিন্তু টিকা না পেলে তো সরকারের অপেক্ষা করতেই হবে।  সম্প্রতি চীনের টিকাই এ মূহুর্তে সম্বল। আসছে রাশিয়া থেকেও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্বক্ষনিক ব্যস্ত রয়েছেন। দেশবাসী তার কর্মতৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কিন্তু ঈদে গ্রামে যাওয়াআসার প্রতিযোগিতা, ইন্ডিয়া থেকে ব্ল্যাক ফাংগাস নিয়ে দেশে প্রবেশ করা ইত্যাদি নানা অবস্থানের কারনে নতুন নতুন সমস্যা ভীতির সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ইন্ডিয়ান বর্ডার সিল করে দেয়ায় যাতায়াত বন্ধ হবার কারনে ফিরেছে স্বস্থি! সব মিলিয়ে এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবনতা বৃদ্ধিসহ টিকা স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার ওপর জোর দিতে হবে। সরকার সচেষ্ট রয়েছে এখন জনগনকেও এই অতিমারী থেকে নিজেদের রক্ষায় সচেতন থেকে কাজ করতে হবে।
লেখক : সিইও, বাংলানিউজইউএসডটকম । 
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code