সিলেটে বড় ধরনের ভূমিকম্পের হাতছানি: আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual8 Ad Code

 

মাহফুজ আদনান :: 

Manual5 Ad Code

সিলেটে ২৯মে শনিবার এবং ৭ জুন সোমবার বেশ কয়েক দফা মৃদু ভূমিকম্প হওয়ায় সিলেটে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। হিমালয় অঞ্চলের ভূমিকম্প সম্বন্ধে বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ রজার বিলহ্যাম এর মতে সিলেটের পাশে মেঘালয়ের ডাউকি ফল্টে ৮ মাত্রার অধিক ভূমিকম্প হওয়াটা শুধু সময়ের ব্যাপার। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ভূমিকম্প হওয়ার আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়। এই ভূমিকম্পের মাধ্যমে ডাউকি ফল্টে ১৮৯৭ সালের পর থেকে জমা হওয়া শক্তির কিছু অংশ ক্ষয় হয়ে গেল।

 

Manual2 Ad Code

বিশ্ববিখ্যাত নেচার বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যদি একটি বড় ভূমিকম্পের মাধ্যমে জমা হওয়া সকল সঞ্চিত শক্তি ছেড়ে দেয় তবে তার ফলাফল হবে অকল্পনীয়। আরও নির্দিষ্ট করে বললে বলতে হয় ঢাকা ও সিলেট শহরের অবস্থা হবে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমার পরে যে ধ্বংশযোগ সাধিত হয়েছিল সেই একই মানের।

 

Manual7 Ad Code

কিন্তু যদি ছোট-ছোট ভূমিকম্পের মধ্যমে জমা হওয়া শক্তি ক্ষয় হয় তবে তা হবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদ। বিপরীত ক্রমে এই ছোট-ছোট ভূমিকম্প যদি পুরো ডাউকি ফল্টকে অস্থিতিশীল করে দেয় তবে সিলেট কিংবা পুরো বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে অকল্পনীয়। তাই আগামী কয়েকদিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

ছোট হোক কি বড় সম্ভাব্য এ দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এবং তা কার্যকর করতে সিলেট সিটি মেয়র গুরুত্বপূর্ণ এবং সোচ্চার ভুমিকা পালন করছেন। এর অংশ হিসাবে ঝুঁকিপূর্ণ ২২টি ভবন থেকে মানুষকে আগামী ১০ দিনের জন্য অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সমীক্ষা চালিয়ে নগরীর ২৪টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে দুটি ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাকিগুলোর মালিকদের বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও সেগুলো ভাঙা হয়নি। অথচ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এসব ভবন ভেঙে ফেলার বিকল্প নেই। সিলেটের ফায়ার সাভিস, স্বাস্থ্যকর্মী, এবং অন্যান্য মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় মেয়র আরিফ।

 

বড় ভূমিকম্প মোকাবিলার প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত আবাসিক ভবনগুলোর বাসিন্দারা ১০ দিনের জন্য ভবন দ্রুত খালি করে দেবেন, এটাই কাম্য।

 

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বাংলাদেশ সবচেয়ে ভুমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি হলো সিলেট অঞ্চল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০০ বছরের ‘ভূমিকম্পের সাইকেল’অনুযায়ী এ অঞ্চলে আরও একটি উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে যেহেতু এ অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প হওয়ার পর ইতোমধ্যে ১২৫ বছর পেরিয়ে গেছে।

 

ভূমিকম্প মোকাবিলায় যথেষ্ট অভিজ্ঞ ও উন্নত প্রযুক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও জাপানের মতো উন্নত দেশে হতাহতের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেছে। সে তুলনায় আমাদের প্রস্তুতি ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সামর্থ্য অতি নগণ্য। কাজেই বড় মাত্রার কোনো ভূমিকম্পে আমাদের কী অবস্থা হবে, তা ভাবলেও রক্ত হিম হয়ে যায়। তবে আশার বিষয় হল সিলেটে বেশি মাত্রায় ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে যা বড় ভূমিকম্প এর প্রতিবন্দক হিসেবে কাজ করতে পারে বা হতে পারে এগুলো ছোট ভূমিকম্প এর শক্তি কমিয়ে দিচ্ছে দিন দিন।

Manual2 Ad Code

 

লেখক : সিইও, বাংলানিউজইউএসডটকম । 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code