‘বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ’

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে পায়রাবন্দর পর্যন্ত রেলসেবা চালু করা হবে। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ।

রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

 

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করতে সরকার নৌ, রেল ও আকাশপথের সার্বিক উন্নয়নে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সারা দেশে রেলযোগাযোগকে শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের আরও পরিকল্পনা আছে যে, একেবারে ঢাকা থেকে বরিশাল ও পটুয়াখালী হয়ে পায়রাবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে যাব। তারও সমীক্ষা আমরা শুরু করব এবং সেই উদ্যোগ নিয়েছি।

বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও প্রাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন– বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। অর্থাৎ বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ। আর সেই সেতুবন্ধ করতে গেলে আমাদের ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগ করতে হবে।

Manual2 Ad Code

‘ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে এই দুটির সঙ্গে যদি আমরা সম্পৃক্ত হতে পারি, তা হলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক বাড়বে। ব্যবসাবাণিজ্য বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষের যোগাযোগ বাড়বে। কাজেই আমাদের জন্য একটি বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

জাতির পিতাকে হত্যার পর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো রেলের ওপরও আঘাত এসেছিল জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ওই সময় যারা অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা দেশ ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা না করে ক্ষমতাকে ভোগ করে নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলায় ব্যস্ত ছিল।

বিএনপি ক্ষমতায় এসে রেললাইন সংকোচন শুরুর পাশাপাশি রেলে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Manual6 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেলকে প্রায় গলাটিপে হত্যা করতে গিয়েছিল বিএনপি সরকার। আমরা ক্ষমতায় এসে এখন আবার তাকে জীবিত করেছি এবং রেলই এখন মানুষের সব থেকে ভরসা। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি– রেল সেই সুযোগটা মানুষকে করে দিচ্ছে যে, আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি।

Manual2 Ad Code

এ সময় বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণে জাপানের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।

যমুনায় রেল সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত; কারণ একসময় এখানে সেতু করার ব্যাপারে আমাকে অনেক তর্ক করতে হয়েছে, অনেক দেনদরবার করতে হয়েছে। আজকে একটা আলাদা সেতু হয়ে যাচ্ছে, আমি মনে করি এত আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নতি তো হবেই এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবেও আমরা আরও সমৃদ্ধ হতে পারব, যা আমাদের দেশকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত করবে।

এ সময় রেলযোগাযোগের উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

গণভবন প্রান্তে এই সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code