বাইডেনের ‘সফলতার মন্ত্র’ বাবার সেই একটি কথা !

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

নিজের জীবন বাইডেনকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আপনজন হারানো, তোতলানোর জন্য মানুষের বিদ্রুপ। ১৯৭২ সালে নিজের স্ত্রী-মেয়েকে হারানোর পর ২০১৫ সালে তার প্রিয় সন্তান বো বাইডেনও মারা যান।

তারপরও থেমে থাকেননি বাইডেন। এগিয়ে গিয়েছেন নিজের মতো করে। নিজের বাবার একটি কথাই তাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাকে কে কতবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল সেটি বড় কথা নয়। তুমি কত দ্রুত উঠে দাঁড়াতে পেরেছ সেটাই তোমার সাফল্যের পরিচায়ক।’

বাবার এই কথা আমলে নিয়ে বাইডেন কখনও হারেননি। ১৯৮৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হতে না পারা, ২০০৮ সালেও একই অবস্থা হয়। তারপর বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদ পার করার পর ২০১৫ সালে প্রার্থিতার প্রস্তুতির সময় ছেলের মৃত্যু। কিন্তু সেটিও কাটিয়ে উঠে বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে প্রাইমারিতে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উঠে আসেন বাইডেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০ নভেম্বর ৭৮তম জন্মদিনের আগেই আমেরিকার সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হওয়া নিশ্চিত হচ্ছে তার।

সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া বাইডেনের দীর্ঘ লালিত স্বপ্নের এই পথ মসৃণ নয়। এজন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। হাল না ছেড়ে লেগে থাকার মধ্য দিয়ে পূরণ হতে যাচ্ছে তার স্বপ্ন।

Manual2 Ad Code

এক নজরে বাইডেন

১৯৪২ সালের ২০ নভেম্বর পেনসিলভানিয়ার স্ক্রানটনে জন্মগ্রহণ করেন বাইডেন। তিনি বসবাস করেন ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের উইলমিনটনে। তার পিতার নাম জোসেফ রবিনেট বাইডেন সিনিয়র। বাইডনের জন্মের আগে তার বাবা ভালো একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু বাইডেনের জন্মের পর ব্যবসায় ধস নামে। এক পর্যায়ে তিনি চুলি­পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন। পুরনো কার বিক্রয় কর্মী হিসেবে কাজ করেন জোসেফ রবিনেট। এ কারণে বাল্যকালে আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে বড় হতে হয় বাইডেনকে।

Manual7 Ad Code

পড়াশোনা ও বিয়ে

Manual8 Ad Code

বাইডেন ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ারের সেন্ট পল’স ইলেমেন্টারি স্কুলে প্রাথমিক ও আর্কেমিয়ার একাডেমি এবং স্টে হেলেনা স্কুলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা করেন। তারপর ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ার থেকে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা থেকে খেলাধুলা ও পার্টি তাকে বেশি টানত। এ কারণে কলেজে সঠিক সময়ে লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি তিনি। কলেজে বাড়তি দুই বছর কাটাতে হয়েছে খ্যাতিমান এ রাজনীতিককে। পড়াশোনার বাইরে খেলাধুলা ও আড্ডায় থাকার সময় তার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বিশেষত ১৯৬১ সালে জন এফ কেনেডির প্রেসিডেন্ট অভিষেক বক্তৃতা বাইডেনকে রাজনীতির প্রতি ঝোঁক এনে দেয়।

ছাত্র থাকাবস্থায় সাইরাকস ইউনিভার্সিটির ছাত্রী নেইলিয়া হান্টারের সঙ্গে পরিচয় হয় বাইডেনের। পরিচয় থেকে ভালো লাগা ও পরিণয়। নেইলিয়ার প্রেমে পড়ে বাইডেন নিজেও সাইরাকস ইউনিভার্সিটির ল’ স্কুলে আবেদন করেন এবং আইন নিয়ে পড়ার সুযোগ পান। ১৯৬৫ সালে ডেলাওয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েট হওয়ার পর ল’ পড়তে যান এবং ১৯৬৬ সালে নেইলিয়া হান্টারকে বিয়ে করেন।

রাজনীতিতে যোগদান

১৯৬৮ সালে আইন পাস করার পর উইলমিংটনে ফিরে যান বাইডেন। সেখানে আইনের প্র্যাকটিস শুরু করেন। একই সঙ্গে ডেমোক্রেটিক দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবেও কাজ করতে থাকেন। আইনের প্র্যাকটিস করতে গিয়ে ধনী ও প্রভাবশালীদের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে চাপ অনুভব করেন তরুণ বাইডেন। একই সঙ্গে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় ১৯৭০ সালে নিউক্যাসল কাউন্টি কাউন্সিলে নির্বাচন করে জয়ী হন। ১৯৭১ সালে নিজের একটি ল’ ফার্ম খোলেন বাইডেন।

Manual6 Ad Code

জো বাইডেন ও তার পরিবার

রাজনীতি ও আইন পেশায় প্রচুর ব্যস্ত থাকলেও পরিবারের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েননি তিনি। ১৯৬৯ সালে তার প্রথম সন্তান জোসেফ বাইডেন তৃতীয় (বো), ১৯৭০ সালে হান্টার বাইনে ও ১৯৭১ সালে মেয়ে নাইওমি বাইডেন জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭২ সালে ডেলওয়ারে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী নেইলিয়া ও মেয়ে নাওমি মারা যান। মারাত্মক আহত হন দুই ছেলেও। ওই সময় তিনি প্রথমারের মতো সিনেটর নির্বাচিত হয়ে কংগ্রেস অফিসের জন্য লোক নিয়োগের সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনে ছিলেন।

১৯৭৭ সালে বর্তমান স্ত্রী জিলকে বিয়ে করেন বাইডেন। এই ঘরে তার তিন কন্যা রয়েছে অ্যাশলি, নাওমি (মৃত কন্যা নাওমির নামে) ও ফিনেগান বাইডেন নামে। নাতি-নাতনি রয়েছে বাইডেনের ছেলে ও মেয়ের ঘরের মোট পাঁচজন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code