

ডেস্ক রিপোর্ট : চাহিদা বাড়ে এমন সবজির দাম বাড়তি। কোনও কারণ ছাড়াই প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।
এদিকে সিলেটে মাংস ব্যবসায়ীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে ডাক দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) থেকে মাংস বিক্রি করছেন না তারা। গত বুধবার মধ্যরাতে জরুরি বৈঠকে সিলেট মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন।
মাংস ব্যবসায়ী নেতারা জানান, সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সিলেট মহানগরী এলাকায় গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬০০ ও ছাগলের মাংস প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। গরু বা ছাগল কিনা অনুযায়ী সিসিক নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি করলে মাংস ব্যবসায়ীদের অনেক লোকসান হয়।
সিলেট মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির জরুরি বৈঠকে ঘোষণা করা হয় গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) থেকে সিলেট মহানগরীতে গরু ও ছাগলের মাংস বিক্রয় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। তাদের দাবি আদায় না হওয়া মাংস বিক্রি বন্ধ রাখবেন বলে জানান নেতৃবৃন্দ। আজ শুক্রবারও মাংস বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
নগরের পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদাররা জানিয়েছেন, এখন বেগুন, শসা, ধনেপাতা ও গাজরের দাম কমেছে। এখানে বেগুন, গাজর প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। ধনেপাতা কেজি ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৫ টাকা।
অন্যদিকে নগরের খুচরা বাজারগুলো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এই সবজিগুলো। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়, কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়, গাজর ৫০ টাকা, শশা আকারভেদে ৫০-৮০ টাকা, টমেটো ২৫-৩০ টাকা। কাকরোল কেজি ১৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, আকারে ছোট দেশি আলু ৫০ ও বড় আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি দরে। একই সবজি চকবাজারে প্রতি কেজি ৩-৫ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা যায়।
ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬৫-১৭০ টাকা, সোনালী ৩৩০ টাকা এবং লেয়ার ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-৩০০ টাকায়, কাতাল ২২০-৪০০ টাকায়, তেলাপিয়া ১৬০-২২০ টাকা, পাঙ্গাস ১৫০ টাকা। এছাড়া চড়া রয়েছে সাগরের মাছের দাম।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে সবজির সংকট নেই। রোজার আগে থেকে সরবরাহ ছিল, এখন তার চেয়েও বেশি আছে। কিন্তু হঠাৎ করে প্রতিবছরের মতো এবারও রোজায় সব ধরনের সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে নগরের ছোবহানীঘাট ও বন্দরবাজার ঘুরে দেখা যায়, এসব পণ্যের দাম দুই বাজারে দুই রকম। লেবু মাঝারি আকারের প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ১৬-২০ টাকায়। একই লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়। রিয়াজউদ্দিন বাজারে পাইকারিতে মাঝারি আকারের লেবু জোড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। খুচরা লেবু ব্যবসায়ী বলেন, লেবু ক্রয় করার সময় বেশি দামে কিনতে হয়েছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া এখনও লেবুর মৌসুম শুরু হয়নি। বৃষ্টি শুরু হলে লেবুর দাম কমে যাবে।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, রমজান এলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তাই ভোক্তাকে স্বস্তি দিতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করতে হবে।