

দেশে পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতা মধ্যে কয়েকটি জেলায় নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। যদি পুরোপুরি উঠতে এখনো দু’-তিন সপ্তাহ লাগবে। তবে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় দাম কমতে শুরু করেছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখার পর পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে এবং চলতি সপ্তাহে তা ২৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। পেঁয়াজের ব্যবসায়ীদের সমিতি জানিয়েছে, পেঁয়াজের চাহিদার ৬০ শতাংশ মেটানো হয় দেশে উৎপাদন থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ আমদানি করা হয়। আমদানি পেঁয়াজের সিংহভাগ আসে ভারত থেকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) হিসাবে, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন। দেশের ফরিদপুর, মাদারীপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী জেলায় মূলত পেঁয়াজ উৎপাদন হয়।
গত দু’-এক দিনে পাবনা, মাদারীপুর, ঝিনাইদহের বাজারে বিক্রয়ের জন্য কিছু নতুন পেঁয়াজ উঠেছে। এ সব পেঁয়াজ অপরিপক্ক; অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের আগে ক্ষেত থেকে তোলা হয়েছে। মাদারীপুরের বাজারে এসেছে পাতাসহ পেঁয়াজ; যা বিক্রি হচ্ছে আঁটি আকারে।
আবহাওয়া ভালো থাকায় এ বছর পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। সাধারণত বছরে ডিসেম্বরে চাষি পেঁয়াজ তুলতে শুরু করে।
আমাদের মাদারীপুর সংবাদদাতা বেলাল রিজভী জানান, রোববার মাদারীপুর শহরের পুরান বাজারে নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়। সেই পেঁয়াজ কেজি দরে নয়, পাতাসহ পেঁয়াজ আঁটি বেঁধে প্রতি আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতি আঁটি ২৫০ গ্রামের মতো ওজন হবে।
পুরান বাজারের তরকারি বিক্রেতা তসলিম বেপারি জানান, জেলা শহরের আশপাশের ক্ষেত থেকে কৃষকরা নতুন পেঁয়াজ তুলে সরাসরি বাজারে বিক্রির জন্য দিয়ে যাচ্ছেন।
মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জি এম এ গফুর বলেন, বেশি লাভ পেতে মূলত বোনা পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করছেন কৃষকরা। এই পেঁয়াজ ১৫/২০ দিন পর তুললে আকারে বড় হতো।
মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলার কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, বাজারে দাম ভালো থাকায় অপরিপক্ক হওয়ার সত্ত্বেও পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে তুলে বিক্রি করতে শুরু করেছেন।
নতুন পেঁয়াজ আসায় পুরনো পেঁয়াজের দামেও প্রভাব পড়েছে। অনেক ক্রেতা ও বিক্রেতা জানান, পুরনো পেঁয়াজ কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। পুরান বাজারের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, শনিবার পেঁয়াজ ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন, রোববার সকাল থেকে তা ২২০ টাকায় বিক্রি করছেন।