বিকাশ প্রতারকচক্রের ফাঁদে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ  “প্রিয় শিক্ষার্থী ! Coronavirus (COVID-19) এর কারণে তোমাদের উপবৃত্তির ৪,২০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। টাকা গ্রহণের জন্য নিম্নোক্ত শিক্ষাবোর্ডের নম্বরে যোগাযোগ করুন। ০১৮৩৮০০৯০৬৮ নম্বরে বৃত্তি কোড ঃ ১২৩০০”——  এই খুদে বার্তাটি সিলেটের রাবেয়া খাতুন চৌধুরী নার্সিং কলেজের এক শিক্ষার্থীর মোবাইলে আসে। এভাবে অনেকের মোবাইলে এ ধরনের ম্যাসেজ আসছে। এই ফাঁদে পড়ে উপবৃত্তির টাকা খুইয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার সতর্ক থাকার কারণে বেঁচে গেছেন। গত কিছু দিন থেকে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছে এ ধরনের খুদে বার্তা পাঠাচ্ছে প্রতারকচক্র।

Manual2 Ad Code

সিলেটের বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি প্রতারণার শিকার হন শিক্ষার্থীরা। এই মাসে বিকাশ অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা আসে। এরপর থেকে বিকাশ প্রতারকচক্র তাদের প্রতারণার ফাঁদ পাতা অব্যাহত রেখেছে। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন শিক্ষার্থীর মোবাইলে এ ধরনের খুদে বার্তা আসছে। শিক্ষার্থী সহজ-সরল ও কিছুটা অসচেতন হওয়ায় সহজেই বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য প্রতারকদের দিয়ে দিচ্ছে। এতে টাকা খুইয়ে থাকে অনেকেই।

Manual6 Ad Code

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, গত তিন দিন আগে তার এক আত্মীয়ের মোবাইলে খুদে বার্তা আসে। তারা এই খুদে বার্তায় দেয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রথমে রিং বাজে। পরে বন্ধ পাওয়া যায়। আবার মঙ্গলবারে মোবাইলে রিং বাজলে পুরুষ কন্ঠ শুনে পুনরায় বন্ধ করে দেয়।

সিলেট শহরতলীর হাজী আব্দুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জানায়, বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা আসার পর মোবাইলে অপরিচিত নম্বর থেকে প্রতারকচক্রের কল আসে। বলা হয়, ‘হ্যালো আমি বিকাশ থেকে বলছি। আমাদের এখানে সিকিউরিটি প্রবলেম হচ্ছে। আমরা আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেব। তার আগে দেখেন- আপনার অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা ঢুকেছে কিনা। যদি টাকা ঢুকে থাকে, তবে ওই টাকা আপনি তুলতে পারবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আমাদের অফিস থেকে সিকিউরিটি পাসওয়ার্ড চেঞ্জ না করে নেবেন।’ এ রকম বক্তব্য দিয়েই গ্রামের সহজ-সরল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারকরা কথা শুরু করে। এরপর কথার মার-প্যাঁচে কৌশলে পিন নম্বর সংগ্রহ করে হাতিয়ে নেয় বিকাশ অ্যাকাউন্টের সব টাকা।

Manual4 Ad Code

প্রতারণার শিকার রিয়াজুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘বাবা বিদেশে থাকেন। কিছু টাকা বিকাশের মাধ্যমে তিনি পাঠিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে বিকাশে ১০ হাজার টাকা ছিল। অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে কৌশলে সব টাকা নিয়ে গেছে প্রতারকচক্র।’

সিলেট শহরতলীর টুকেরবাজার এলাকার বিকাশ এজেন্ট দিলোয়ার হোসেন জানান, উপবৃত্তির টাকা ছাড় হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে প্রতারকচক্র। প্রতিদিনই শুধু শিক্ষার্থী নয় সাধারণ গ্রাহকের টাকা খোয়ানোর খবর আসে। তিনি বলেন, কেউ টাকা পাঠানোর আগে আমরা বার বার জিজ্ঞেস করি আপন বা পরিচিত কাউকে পাঠাচ্ছেন কিনা। কেউ প্রতারণার শিকার হলে আমরা তাদের কাস্টমার কেয়ার যাওয়ার পরামর্শ দেই।

নলকট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালিক মামুন বলেন, প্রতারকদের ফোন পেয়েছেন এমন অভিভাবক অনেক সময় এসে জানান, আমরা তাদের সতর্ক করে দেই। উপবৃত্তির টাকা মোবাইলে প্রবেশের আগেই সতর্ক করে দেই। এক্ষেত্রে অভিভাবক শিক্ষার্থী সকলেই সতর্ক হতে হবে।

Manual1 Ad Code

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, বিকাশ প্রতারণার শিকার হলে যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন থানায়। তিনি বলেন, পুলিশের সিআইডি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই চক্রকে সনাক্ত করতে পারে। তবে সবার আগে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ফাঁদে পা দেয়ার আগে সতর্কতা অবলম্বন করাই উত্তম।

মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট এর সচিব প্রফেসর মোঃ কবির আহমদ বলেন, বিকাশ নিজেই টেলিভিশনসহ সামাজিক মাধ্যমে প্রতারণা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। আমরাও পরিষ্কার করে জানিয়েছি, শিক্ষাবোর্ডের অধীনে উপবৃত্তি প্রদানের কোন সিস্টেম নেই। শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এই টাকা সরবরাহ হয়ে থাকে। বোর্ড থেকে উপবৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বিকাশ প্রতারকদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code