বিজয়ের মাস ডিসেম্বর: মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পর্যাপ্ত সম্মান পাননি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual5 Ad Code

ডেস্ক নিউজ: বাংলাদেশে আজ অসংখ্য অট্টালিকা গড়ে উঠেছে, গড়ে উঠেছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু, রাস্তাঘাট, সুসজ্জিত দোকান বিপণি, চোখ ধাঁধানো নানা মার্কেট, হাসপাতাল, রেলপথ নির্মিত হচ্ছে, পদ্মা সেতু সমাপ্তি প্রায় এবং আরও কত কিছু। অর্জন অনেক কিন্তু যথেষ্ট নয়। হাঁটতে হবে আরও অনেক পথ। কী কী হয়নি সেগুলোর জন্য কী কী করতে হবে সে ফিরিস্তির উল্লেখ নাই বা করলাম।

কিন্তু এই যত কিছু অর্জন তা সম্ভব হয়েছিল ৫০ বছর আগের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা অর্জন ও বিজয় ছিনিয়ে আনার সাফল্যের কারণে। আর সেই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অগণিত মুক্তিযোদ্ধার অতুলনীয় অবদান। তাই মুক্তিযোদ্ধারাই যে স্রষ্টা বাংলাদেশের, সে কথা মনে প্রাণে, অন্তরের সব শ্রদ্ধাবোধ থেকে মানতে হবে। সর্বাধিক সম্মানে সব ক্ষেত্রে সম্মানিত করতে হবে। না মুক্তিযোদ্ধারা কিছু পাওয়ার ব্যক্তিস্বার্থে কিছু অর্জনের জন্য লড়াই করেননি। কোনো মোহ ছিল না তাদের। তাই মুক্তিযোদ্ধারা যেমন বঙ্গবন্ধুর ডাকে ও সর্বোচ্চ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির জন্য স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ করতে কার্পণ্য করেননি তেমনই, স্পষ্ট ভাষায় বলি, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। কোনো দয়া বা কৃপা নয়।

Manual1 Ad Code

লেখাটি আদৌ কোনো আবেগপ্রসূত নয় অথবা কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা বা গৌরবান্বিত করার লক্ষ্যেও নয়। লিখতে বসেছি নেহায়েতই মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়নের ব্যবস্থাদি দেখে তার আশু অবসানের লক্ষ্যে। আগেই বলেছি, সরকার মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু ভাতার পরিমাণ কত? তা কি আদৌ ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ট? মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছরের দ্রব্যমূল্য শতকরা কতভাগ বেড়েছে তখনকার তুলনায়? প্রদত্ত ভাতা কী তার সঙ্গে আদৌ সঙ্গতিপূর্ণ? রাষ্ট্র ভাবুন সরকার ভাবুন। আমি ভাতার পরিমাণটি উল্লেখ থেকে বিরত থাকলাম। শুধু এটুকুই বলি সরকারি অফিসের যেকোনো কর্মচারীই তার চাইতে অনেক বেশি পান রাষ্ট্রীয় বা জনগণের তহবিল থেকে।

Manual5 Ad Code

তদুপরি তাদের ভাতাদানের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের সরকারি কর্মচারী ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। যেন ওই তারা প্রভু এবং মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্রের স্রষ্টা তারা তাদের ভৃত্য। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় খোলা হয়েছে। মন্ত্রী থেকে শুরু করে ওই মন্ত্রণালয়ে অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তি অনেক পরিশ্রম করে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার ব্যাপারে, তাদের গৃহায়নের ব্যাপারে মৃত্যুর পরে তাদের দেহ সমাহিত করার আগে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের ক্ষেত্রে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দফায় দফায় যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এক চমৎকার ব্যবস্থা উৎকৃষ্ট পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। যে কর্মচারীরা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের কর্মচারী, তাদেরই দেওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের ওই কাজগুলোয় কর্তৃত্ব। অথচ ওই মুক্তিযোদ্ধারাই হলেন বাংলাদেশ নামক আমাদের রাষ্ট্রটির নির্মাতা। তারা কি ষাটোর্র্ধ্ব? সত্তরোর্ধ্ব? অশীতিপর? না বেশিরভাগই তারা ত্রিশের ঘরে (বয়সের দিক থেকে)। দেখেননি তারা মুক্তিযুদ্ধ। অনেকে আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লিখিত একটি বইও পড়েননি। তাদের জন্য অবশ্যই গৌরবের যে বয়সে দ্বিগুণ, তিনগুণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রভুত্ব তারা অর্জন করতে পেরেছেন। তাদের এক কলমের খোঁচায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, কাটা যেতে পারে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রকাশিত গেজেট থেকে তাদের নাম, ঘটতে পারে জানা-অজানা আরও অনেক বিপর্যয়।
ওই কর্মচারীদের কাছে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মান পান কতটুকু? যে মুক্তিযোদ্ধারা সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত, যারা তাদের সুপরিচিত, তারা বাদে কেউই তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে কোনো আমলাই এক সেকেন্ডের জন্য দাঁড়িয়েও রাষ্ট্রের ওই স্রষ্টাদের সম্মান জানান না। আর্থিক বা সামাজিক অবস্থান দিয়ে কি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নির্ধারিত হবে? এরা জানেনও না যে দেড় থেকে দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন গরিবের ঘরের সন্তান। ধনীর দুলালরা নন। তারা দিব্যি ওই ৯টি মাস এদেশ ও দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন নিরুদ্বেগে তাই ধনী-নিধন নির্বিশেষে, শহুরে গ্রামীণ নির্বিশেষে সব

Manual2 Ad Code

মুক্তিযোদ্ধারই মর্যাদা হবে এক অভিন্ন এবং বৈষম্যহীন। দফায় দফায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের আদেশ দিয়ে চলেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় যত বেশি করে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের নামে হয়রানি ও সম্মানহানি ঘটিয়ে চলেছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আমলারা নোটিস ইস্যু করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দলিলপত্রসহ তারা গিয়ে যেন প্রমাণ করেন তারা প্রকৃতই মুক্তিযোদ্ধা। জানা মতে কেউ কি বিশ^াস করবেন মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত গবেষক, লেখক, ইতিহাসবিদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল, প্রথম মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল নাঈম জাহাঙ্গীর, বদরুজ্জামান বীর প্রতীক, ইঞ্জিনিয়ার আফসার (মুক্তিযুদ্ধকালে চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, রেজাউল করিম, প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও ওইভাবে আমলাদের দ্বারা ইস্যুতে নোটিস পেয়েছেন অবমাননার শিকার হয়েছেন। এতদূরও পারল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পারল সরকারি কর্মচারীরাও! জানি না আরও কত হাজার হাজার পরিচিত-অপরিচিত মুক্তিযোদ্ধা যারা সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, তারা কতই না হয়রানির শিকার হচ্ছেন কতই না প্রমাণ অভাবে তালিকা থেকে নাম কর্তনের অসহায় শিকারে পরিণত হচ্ছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code