বিজয় উদযাপনের সুন্নাতি আমল

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক: মানুষের জন্য বিজয় ও মুক্তি লাভ যেমন অনেক বড় অর্জন তেমনি বিজয় উৎসবও মানুষের জন্য অনেক বড় নেয়ামত। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও জীবনে এমনই বিজয় লাভ করেছিলেন । তিনি দ্বীন প্রচারের কারণে স্বজাতির কাছে নির্যাতিত হয়ে প্রিয় জন্মভূমি পবিত্র নগরী মক্কার সহায়-সম্বল, আত্মীয়-স্বজন, ধন-সম্পদ, বাড়ি-ঘর ছেড়ে হিজরত করেছিলেন মদিনা মুনাওয়ারায়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ ১০ বছর মদিনায় অবস্থান করার পর প্রিয় জন্মভূমি ও রেখে যাওয়া বাড়িঘর ফিরে পেয়েছিলেন। লাভ করেছিলেন চূড়ান্ত বিজয়। পেয়েছিলেন মুক্তির স্বাদ। মুক্তির আনন্দে তিনি কারো প্রতি জুলুম করেননি।

বরং বিজয়ের আনন্দে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন দৃষ্টান্ত দেয়ার মতো নতুন ইতিহাস ও উদাহরণ। করেছিলেন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের অনন্য আমল। যা হাদিসের বর্ণনায় সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে-

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম জাওজির বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিজয়ের আনন্দে পবিত্র নগরী মক্কায় বিজয়ের দিন শুকরিয়াস্বরূপ ৮ রাকাআত নামাজ আদায় করেছিলেন।’ (জাদুল মাআদ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখাদেখি মক্কা বিজয়ে অংশগ্রহণকারী দেশপ্রেমিক সাহাবায়ে কেরামও প্রিয় নবির অনুসরণ এবং অনুকরণে ৮ রাকাআত নফল নামাজ আদায় করেছিলেন।’

>> বিশ্বনবির বিজয় উৎসব
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ে অনেক খুশি ও আনন্দিত হয়েছিলেন। এ থেকে বুঝা যায় যে, বিজয়ের আনন্দ উদযাপন করা দোষণীয় নয়। তবে বিজয়ের আনন্দের নামে অশ্লীল গান ও ইসলাম পরিপন্থী আচার-অনুষ্ঠান পরিহার করতে হবে।

Manual8 Ad Code

কল্যাণকর সব কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ বিজয় উদযাপন করতে হবে। নফল নামাজ আদায়, গরিব-অসহায়দের সাহায্য ও সমাজ কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। অযথা অপচয় ও অশ্লীলতা পরিহার করতে হবে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান তৈরি করতে হবে। যেভাবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নজির গড়েছিলেন বিশ্বনবি।

প্রিয় জন্মভূমির স্বাধীনতায় তিনি এত বেশি খুশি হয়েছিলেন, যা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব ছিল না। বিজয়ের আনন্দে তিনি সেদিন ঘোষণা করেছিলেন-
‘(অত্যাচারীদের) যারা কাবাঘরে আশ্রয় নেবে তারা নিরাপদ। এভাবে মক্কার সম্ভ্রান্ত কয়েকটি পরিবারের ঘরে যারা আশ্রয় নেবে, তারা যত অত্যাচার-নির্যাতনকারীই হোক না কেন তারাও নিরাপদ। এই ছিল প্রিয়নবীর মক্কা বিজয়ের আনন্দ উৎসবের ঘোষণা।’

মনে রাখতে হবে
বিজয় উদযাপন দেশপ্রেমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুসলমানদের রক্তকণিকায় দেশপ্রেমের শিহরণ জাগ্রত থাকা ঈমানের একান্ত দাবি। কেননা দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। এ দেশপ্রেমের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো- দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা। কেননা দেশের নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্বারোপ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন-
‘আল্লাহর পথে একদিন ও এক রাত সীমান্ত পাহারা দেয়া এক মাস পর্যন্ত রোজা পালন ও এক মাস ধরে রাতে নামাজ আদায়ের চেয়ে বেশি কল্যাণকর। যদি এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে যে কাজ করে যাচ্ছিল, মৃত্যুর পরও তা তার জন্য অব্যাহত থাকবে; তার রিজিক অব্যাহত থাকবে, কবর-হাশরের ফেতনা থেকে সে থাকবে নিরাপদ।’ (মুসলিম)

শুধু তাই নয়, আল্লাহ তাআলা এ বিজয় শিরোনামে দুইটি সুরা (সুরা নাসর ও ফাতহ) নাজিল করেছেন। যাতে যুদ্ধকালীন সময়ের বিষয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার কথাও ওঠে এসেছে। সুরা দুটিতেও বিজয়ের আনন্দ উদযাপন ও করণীয় সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘যখন আল্লাহর সাহায্যে বিজয় আসবে, তখন মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবে। তখন তোমার প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা কর। আর তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল।’ (সুরা নাসর : আয়াত ১-৩)

এ আয়াতে আল্লাহর প্রশংসামালায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করার কথা বলা হয়েছে। অতপর যুদ্ধকালীন সময়ে নিজেদের অজান্তে যেসব ভুলত্রুটি হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার কথাও বলা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

অন্য আয়াতে বিজয়ের আনন্দে করণীয় কী; তা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা (রাষ্ট্র ক্ষমতা ও বিজয়) দান করলে তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে, জাকাত আদায় করবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে।’ (সুরা হজ : আয়াত ২২)

Manual3 Ad Code

বিজয় দিবসে করণীয়
– বিজয় দিবসের আনন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করা।
– বিজয়ের আনন্দে সুন্নাতি আমল হিসেবে ৮ রাকাআত নফল নামাজ আদায় করা।
– আল্লাহর প্রশংসা এবং পবিত্রতা বর্ণনা করার পাশাপাশি নিজেদের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।
– গবির অসহায়দের মাঝে জাকাতের অর্থ বণ্টন করা।
– সমাজে ভালো কাজের প্রচলন করা এবং
– অন্যায় প্রতিহতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করা।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ঐতিহাসিক ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়। এ বিজয় দিবসে সবার উচিত, দেশের জন্য দোয়া করা। সব শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা। বিজয়ের দিন হাদিসে বর্ণিত সুন্নাতি আমল হিসেবে ৮ রাকাআত নফল নামাজ আদায় করা। গরিব অসহায়দের মাঝে জাকাত বণ্টনসহ আর্থিক অনুদান প্রদান করা। বিশেষ করে দেশের জন্য এভাবে দোয়া করা-
– رَبِّ اجْعَلْ هَـذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الأَصْنَامَ
উচ্চারণ: রাব্বিঝআল হাজা বালাদা আ-মিনাওঁ ওয়াঝনুবনি ওয়া বানিইয়্যা আন না’বুদাল আচনাম।
অর্থ : ‘হে প্রভু! এই দেশ-জনপদকে শান্তিময় করে দাও। আর আমাকে ও আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখ।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৩৫)

– اَللَّهُمَّ احْفَظْنَا بِلَادِنَا بَنْغَلَادِيْش
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাহফাজনা বিলাদিনা বাংলাদেশ।
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি বাংলাদেশকে হেফাজত করুন।

Manual8 Ad Code

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করার তাওফিক দান করুন। বিজয়ের আনন্দে কুরআন-সুন্নাহর আমল যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code