বিদ্যুৎ না থাকলেও ফ্রিজে মাছ-মাংস তাজা রাখার সহজ কৌশল

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকলে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস ও অন্যান্য পচনশীল খাবার। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ফলে মাছ, মাংস, দুধ, ডিমসহ বিভিন্ন খাবারে জীবাণু দ্রুত বাড়ার সুযোগ পায়। তবে কিছু সতর্কতা মেনে চললে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের সময়ও খাবার বেশ কিছুক্ষণ নিরাপদ রাখা সম্ভব-

বারবার ফ্রিজের দরজা খুলবেন না

Manual2 Ad Code

বিদ্যুৎ চলে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ফ্রিজের দরজা অপ্রয়োজনে না খোলা। দরজা খুললেই ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং বাইরে থেকে উষ্ণ বাতাস ঢোকে। এতে খাবার দ্রুত গরম হয়ে যায়। লোডশেডিং শুরু হওয়ার পর কী খাবার আছে তা দেখার জন্য বারবার ফ্রিজ খুলবেন না। বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরও প্রয়োজন ছাড়া দরজা খোলা এড়িয়ে চলুন।

Manual8 Ad Code

ফ্রিজের ভেতর যতটা সম্ভব ভর্তি রাখুন

ফ্রিজ বা ফ্রিজারের ভেতর বেশি পরিমাণ খাবার থাকলে ঠান্ডা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ধরে রাখা যায়। তাই বিদ্যুৎ যাওয়ার আগেই সম্ভব হলে ফ্রিজার অংশে জমাট খাবারগুলো গুছিয়ে রাখুন। তবে ফ্রিজ অতিরিক্ত ঠাসাঠাসি করাও ঠিক নয়। ঠান্ডা বাতাস চলাচলের জন্য কিছুটা জায়গা রাখা প্রয়োজন।

বরফের প্যাক বা বরফ ব্যবহার করুন

দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকার সম্ভাবনা না থাকলে আগে থেকে কয়েকটি পানিভর্তি বোতল বা আইস প্যাক জমিয়ে রাখতে পারেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে এগুলো ফ্রিজার বা খাবারের কাছাকাছি রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা কিছুটা সময় কম রাখা সম্ভব হবে। যাদের এলাকায় নিয়মিত দীর্ঘ লোডশেডিং হয়, তারা কয়েকটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য আইস প্যাক ফ্রিজে জমিয়ে রাখতে পারেন। এতে জরুরি সময়ে সহজেই কাজে লাগানো যায়।

কাঁচা মাছ-মাংস আলাদা করে রাখুন

মাছ ও মাংস রাখার সময় সেগুলো ভালোভাবে প্যাক করে আলাদা পাত্র বা ব্যাগে রাখা উচিত। বিশেষ করে কাঁচা মাংস থেকে বের হওয়া তরল যেন অন্য খাবারের ওপর না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। লোডশেডিংয়ের সময় খাবার গলতে শুরু করলে কাঁচা মাছ-মাংস থেকে জীবাণু অন্য খাবারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই সম্ভব হলে এসব খাবার ফ্রিজারের সবচেয়ে ঠান্ডা অংশে রাখুন।

মাছ-মাংসের গন্ধ বা রং দেখে নিরাপদ ধরে নেবেন না

Manual6 Ad Code

বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর অনেকেই মাছ-মাংসের গন্ধ বা রং দেখে সিদ্ধান্ত নেন খাবারটি খাওয়া যাবে কি না। কিন্তু শুধু গন্ধ বা চেহারা দেখে খাবার নিরাপদ কি না সবসময় বোঝা যায় না। পচনশীল খাবার দীর্ঘসময় নিরাপদ তাপমাত্রার বাইরে থাকলে ক্ষতিকর জীবাণু বাড়তে পারে। তাই সন্দেহ থাকলে ঝুঁকি না নিয়ে খাবারটি ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।

গলানো খাবার আবার জমাবেন নাকি ফেলে দেবেন?

ফ্রিজারের খাবার পুরোপুরি গলে গেলেও সেটি স্বাভাবিকভাবে আবার জমিয়ে রাখা সবসময় নিরাপদ নয়। তবে খাবারে এখনও বরফের কণা থাকলে বা সেটি নিরাপদভাবে ঠান্ডা অবস্থায় থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই খাবার কতক্ষণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল এবং কতটা গলেছে, তা বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে মাছ-মাংস সম্পূর্ণ গলে গিয়ে দীর্ঘসময় উষ্ণ অবস্থায় থাকলে শুধু আবার ফ্রিজে রেখে দেওয়া উচিত নয়।

বিদ্যুৎ আসার পর কী করবেন?

Manual2 Ad Code

বিদ্যুৎ ফিরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজের দরজা খুলে সব খাবার পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। কিছুক্ষণ ফ্রিজ চলার পর প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার বের করুন। যেসব খাবার নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, সেগুলো আলাদা করে রাখুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের সময় খাবার বাঁচানোর চেয়ে পরিবারের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। সামান্য খাবার নষ্ট হওয়া আর খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি নেওয়া এক বিষয় নয়। তাই সন্দেহজনক মাছ-মাংস খাওয়ার ঝুঁকি না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code