বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক দেশে : ঝুঁকিতে রেমিট্যান্স নির্ভর পরিবার

লেখক:
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

Manual5 Ad Code

করোনার প্রভাবে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্স নির্ভর পরিবারগুলোর ওপর। নিম্ন আয়ের এ পরিবারগুলো অন্য-বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিত্সাসহ প্রাত্যহিক খরচ মেটাত এই রেমিট্যান্সের টাকায়। এ পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা না হলে দারিদ্র্যের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

Manual8 Ad Code

বৃহস্পতিবার ‘এশিয়ান ইকনোমিক ইন্টিগ্রেশন রিপোর্ট (এইআইআর) ২০২২’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই আশঙ্কা করা হয়। ২০২০ সালে মার্চের পর থেকে বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ শুরু হয়। সেই সময়ে রেমিট্যান্স গ্রহীতা পরিবারগুলোর ওপর ধারাবাহিক জরিপ পরিচালনা করে এডিবি। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, করোনার ধাক্কা কাটাতে সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্হানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগ যেমন নগদ সহায়তা, মজুরি সহায়তা, কর্মসংস্হানবান্ধব কর্মসূচিও রয়েছে। কিন্তু সামাজিক সুরক্ষার এসব উদ্যোগ প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারগুলোতে পৌঁছানোর উপযোগী নয়। অথচ ফিরে আসা প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারগুলোতে আর্থিক সহায়তা খুবই প্রয়োজন।

Manual6 Ad Code

মে মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে পেতে থাকে পরিবারগুলো। তবে মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ২৫ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ২০২০ সালে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আহরণ বাড়তে থাকে। কিন্তু প্রবাসে কাজ হারানো শ্রমিকদের পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবাসী এই কর্মীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের মাধ্যমে পরিবারগুলো অন্ন-বস্ত্র, স্বাস্হ্য, শিক্ষাসহ নিত্য খরচে ব্যয় করে থাকে। কারণ তাদের অনেকেরই বিকল্প কোনো আয়ের উত্স নেই।

Manual7 Ad Code

এডিবির প্রতিবেদনে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোতে রেমিট্যান্স, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যের বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে বাণিজ্যের আকার গত তিন দশকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২১ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে) এই অঞ্চলে বাণিজ্যের আকার বেড়েছে ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ। এই সময়ে সার্বিক ভাবে বিশ্বে বাণিজ্য বেড়েছে ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ। করোনার ধাক্কায় ২০২০ সালে বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি না হয়ে উল্টো সংকোচন হয়েছিল ৩ শতাংশে বেশি। তবে সার্বিক ভাবে এই অঞ্চলের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ আলবার্ট পার্ক বলেছেন, এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলে বাণিজ্য বৃদ্ধির তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে করোনার প্রভাবে অর্থনীতির ক্ষতিও দৃশ্যমান হয়েছে। বহুদেশে দারিদ্র্য হার কমানোর গতি কমে গেছে। টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা দৃঢ় করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code