বিয়ানীবাজার থানাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন, গুলিতে নিহত ৩

লেখক:
প্রকাশ: ২ years ago

Manual6 Ad Code

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবরে সোমবার বিকেলে সিলেটের বিয়ানীবাজারে ছাত্র-জনতা খন্ড খন্ড বিজয় মিছিল পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরো পৌরশহর হয়ে উঠে মিছিলের নগরী। এসময় বিয়ানীবাজারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা আওয়ামীলীগের কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। পরে বিক্ষুদ্ধরা বিয়ানীবাজার উপজেলা অফিস ও থানায় অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া বিক্ষুব্ধ জনতা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, আওয়ামীলীগ নেতার ব্যাক্তিগত কার্যালয় ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। এসময় পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বিয়ানীবাজার ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম চেস্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তবে এরআগেই কয়েকটি গাড়িসহ থানার বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

Manual1 Ad Code

নিহতরা হলেন, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রায়হান গাজী। সে পৌরশহরের নয়াগ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার মূল বাড়ী ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায়। বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী সুনামগঞ্জের ময়নুল ইসলাম ও মোল্লাপুর ইউনিয়নের কটুখালিপার গ্রামের রফিক উদ্দিনের পুত্র মোঃ তারেক আহমদ।

বিয়ানীবাজার হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে আরও দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম জানান, এখন পর্যন্ত হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেনাবাহিনী কাজ করছে।তিনি জানান, পুরো উপজেলা লন্ডভন্ড রয়েছে। শীঘ্রই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

Manual1 Ad Code

বিয়ানীবাজারে কেউ যেনো ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ লুটপাট না করে সেজন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের পর থেকে থানা তালাবদ্ধ ও পুলিশশূণ্য রয়েছে। চরম আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।

Manual5 Ad Code

স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর বিয়ানীবাজার পৌরশহরে আনন্দ মিছিল বের হয়। এসময় উত্তেজিত জনতা বিয়ানীবাজার থানায় হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করে। এসময় পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার ভোরে বিয়ানীবাজার থানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নেই কোনো পুলিশ সদস্য। পড়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া গাড়ি, আসবাবপত্র। থানা এলাকা বর্তমানে বিয়ানীবাজার পৌরসভার অধীনে রয়েছে।

এ ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন বিয়ানীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর সায়েক আহমদ।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code