বেতনের বেশিরভাগ টাকা যাওয়া-আসাতে শেষ হচ্ছে’

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

রাজধানীর পল্টনের একটি ইন্টারনেট কোম্পানিতে চাকরি করেন মো. আবুল কালাম। ভাড়া থাকেন কাজলা। লকডাউনের মধ্যে অফিস খোলা থাকায় নিয়মিত অফিস করতে হচ্ছে তাকে।

Manual5 Ad Code

অফিস থেকে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় নিজের খরচেই অফিসে যেতে হচ্ছে। শুধু আবুল কালাম একা নন, এমন অনেক স্বল্প আয়ের মানুষকে  প্রতিদিন বাড়তি ভাড়া দিয়ে অফিসে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। অথচ সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, লকডাউনের মধ্যে অফিস খোলা রাখলে কৃর্তপক্ষকে কর্মীদের আনা-নেওয়ার ব‌্যবস্থা করতে হবে। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যাতায়াতের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই।

Manual8 Ad Code

সোমবার (২৬ এপ্রিল) রায়েরবাগ থেকে আবুল কালাম নামে একজন বলেন, ‘জরুরি সেবার কারণে লকডাউনের মধ্যে আমাদের অফিস খোলা রাখা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনায় নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় কর্মীদের আনা-নেওয়ার কথা থাকলেও আমাদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করেনি। তাই নিজ খরচে অফিস করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রমজান মাস। এ মাসের এমনিতেই খরচ বেশি। মা অসুস্থ। মাসে যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। করোনার কারণে ২৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি। অল্প বেতনের চাকরি করে রিকশায়  অফিস যাওয়া সম্ভব না। তাই চাকরি বাঁচাতে কিছু পথ হেঁটে কিছু পথ রিকশাতে করে আসা-যাওয়া করি। কাজলা থেকে পল্টনে রিকশা ভাড়া ২০০ টাকা আর সিএনজি অটোরিকশাতে গেলে ৩০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। বেতনের বেশির ভাগ টাকা রাস্তাতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে।’

Manual6 Ad Code

পল্টনে তোপখানা রোড থেকে একটি দৈনিক পত্রিকার অফিস সহকারী রায়হান হোসেন বলেন, ‘লকডাউনের শুরু থেকেই আমাদের অফিস খোলা রয়েছে। চাকরি বাঁচাতে অফিস করতে হচ্ছে। কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে কখনও রিকশায়, অটোরিকশায় আবার হেঁটে অফিস করছি। কিছু তো করার নাই। অফিস থেকে কোনো পরিবহন খরচ দেয় না।’

পল্টনে কথা হয় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের এক অফিস সহকারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যারা বড় পদে চাকরি করেন তাতার তো গাড়িতে আসা-যাওয়া করেন। আমাদের জন্য পরিবহনের কোনো ব্যবস্থা নেই। হেঁটে কিংবা রিকশায় অফিস করছি। এ নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। কথা বললে উল্টো চাকরি চলে যাবে।’

Manual1 Ad Code

পল্টন করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের সহকারী ম্যানেজার ইমাম হোসেন বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা মেনে অফিস চলছে। আমরা নিজস্ব পরিবহনে  কর্মীদের অফিসে যাওয়া-আসার ব্যবস্থা করছি।  কেউ কেউ রিকশা বা অন্য কোনো উপায়ে অফিসে আসছেন। তাদের অফিস থেকে বিলের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করা হচ্ছে। যারা কাছাকাছি থাকছেন তাদের কেউ কেউ  হেঁটে অফিস করছেন।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code