বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণায় আগ্রহী হচ্ছে না

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

Manual4 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : বেসরকারি অর্ধশতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ই গবেষণায় আগ্রহী হচ্ছে না। ফলে ওই খাতে প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো টাকা খরচ করছে না। বর্তমানে ১১৬টিবেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।আর ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ১১০টি। তখন সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি এবং চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকা ৯৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশির গবেষণায় আগ্রহ দেখা যায়নি। যদিও ওই সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় তিন লাখ ৫৮ হাজার ৪১৪ জনশিক্ষার্থী ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

Manual2 Ad Code

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রথাগত পড়ালেখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো অনেক কাজ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ হলো জ্ঞান সৃষ্টি ও গবেষণা এবং জ্ঞান বিতরণ ও সংরক্ষণ। তার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে জ্ঞানের সীমানা প্রসারিত করা হয় এবং মানব সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাছাড়া বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করাও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই গবেষণা নিয়ে খুব একটা ভাবে না। তারা শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি ও তাদের সনদ দেয়ায় ব্যস্ত। কে কতটুকু শিখতে পারল সেদিকে নজর নেই। পাস করা শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে যুক্ত হতে পারল কি না সে ব্যাপারেও তাদের খেয়াল নেই।

সূত্র জানায়, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনাক্রমে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। তাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সমস্যা ও চাহিদার কথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জানাতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গবেষণার মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী কাজ করার পাশাপাশি উদ্ভূত সমস্যার উপায় বের করে দেবে।  ফলে বিশ্ববিদ্যালয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাবে এবং পণ্যের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। এ ধরনের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে রাষ্ট্রের বাজেটের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে পারবে।

Manual4 Ad Code

সূত্র আরো জানায়,ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়গবেষণা খাতে সর্বোচ্চ ৬৪ কোটি টাকারও বেশিব্যয় করেছে। তাছাড়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস গবেষণা খাতে জোর দিয়েছে। তারা ধারাবাহিকভাবে গবেষণা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে। অথচ ২০ বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতেএক টাকাও ব্যয় করেনি। আর এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করেছে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়। আর পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছে ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়। বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এর চেয়ে বেশি ব্যয় করেছে। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে নাম ওঠানোর জন্য নামকাওয়ান্তে কিছু ব্যয় দেখিয়েছে, যা মূলত গবেষণা খাতের ব্যয় নয়।

Manual1 Ad Code

২০২৩ সালে গবেষণায় এক টাকাও ব্যয় না করা আরো বিশ্ববিদ্যালয় হলো ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব গে­াবাল ভিলেজ, আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি, জেড. এন. আর. এফ. ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস, আহসানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল­াহ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি, আরটিএম আল-কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি।

এদিকে বিগত ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে বর্তমানে চার হাজার ৮৮ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। অথচ ২০২৩ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণা খাতে এক টাকাও ব্যয় করেনি। একই অবস্থা ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত সিটি ইউনিভার্সিটিও। বর্তমানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষার্থী থাকলেও তারাও গবেষণায় কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্য পিপল’স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও গবেষণায় কোনো অর্থ ব্যয় করেনি।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, গবেষণা খাতে আগে খুব করুণ অবস্থা ছিল। ইউজিসি এখন এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটের কমপক্ষে ২ শতাংশ গবেষণা খাতে ব্যয় করতে হবে। এটা সব বিশ্ববিদ্যালয়কে জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কাজও শুরু করেছে।  আশা করা যায় ২০২৬ সালে গবেষণা খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। আসলে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। ইউজিসি তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code