বৈজ্ঞানিক অণুগল্প :: টাইম মেশিন

লেখক:
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual6 Ad Code

ডা. সৈয়দ শওকত আলী : বিজ্ঞানী হকিংএর ক্রনোলজি রক্ষণ তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করে টাইম মেশিন বানিয়ে বসলেন বিজ্ঞানী সাকা ওপেনহাইমার। ঐ তত্ত্বে হকিং বলেছিলেন জগতের ঘটনাবলীর ক্রম পরিবর্তন সম্ভব নয়।

এ কাজে তিনি টিপলার সিলিন্ডার সিস্টেম ব্যবহার করলেন, কারণ ওয়ার্মহোল, মহাজাগতিক দড়ি কিম্বা কৃষ্ণবিবর ছেলের হাতের মোয়া নয় যে চাইলেই পাওয়া যাবে। আর যথেষ্ট পরিমাণ -ve শক্তি ছাড়া আলক্যুবিয়ের ড্রাইভ করাও সম্ভব না।

এবার আর তাঁর পদার্থে নোবেল প্রাপ্তি আটকায় কে। তবে বিজ্ঞানী সাকা গভীর জলের মাছ, শুধু পদার্থে সন্তুষ্ট না, তাঁর লক্ষ্য একই বছর শান্তিটাও বাগিয়ে নেয়া। অবশ্যি তাঁর মনে যে মহৎ উদ্দেশ্য, শান্তিটাও তাঁরই প্রাপ্য- টাইম মেশিনে অতীতে গিয়ে রবার্ট ওপেনহাইমারকে কতল করা, যে ছিল পারমাণবিক বোমা তৈরির পালের গোদা।

Manual3 Ad Code

তবে ব্যাপারটা ‘গেলাম মারলাম আর আইসা নোবেল ঘরে তুললাম’ – অমন নয়। কিছু জটিলতা আছে- টাইম ট্র্যাভেলের পরিণতি নিয়ে নানা মুনির নানা মত।

প্রথমত, নভিকভ এর সামঞ্জস্য নীতি। এই নীতি অনুযায়ী, মানব অতীতে গেলেও এমন কিছু করতে পারবে না যা ইতিহাসকে বদলে দেয়।

দ্বিতীয়ত, মাল্টিভার্স বা প্যারালাল ইউনিভার্স থিওরি। এটা বলে, কেউ অতীতে গেলেই ১টি নবসৃষ্ট জগতে প্রবেশ করবে। তার সমস্ত কর্মের ইফেক্ট ঐ জগতে প্রযোজ্য হবে, ইহজগত থাকবে অপরিবর্তিত।

তৃতীয়ত এবং মূলত, গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স বা দাদুভাই সংকট। রবার্ট ওপেনহাইমার সাকার পূর্বপুরুষ। সাকা রবার্টকে কতল করলে সাকার নিজের অস্তিত্ব থাকবে কিনা তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত সন্দিহান। সাকাবাবু বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট।

বিজ্ঞানী সাকার সামনে ১টাই আশা, আর তা হল করাপশন টাইমলাইন/ ইরেইজড টাইমলাইন/ ডেসট্রাকশন রিজল্যুশন তত্ত্বগুলোর যে কোন ১টি সঠিক হওয়া। তবে এখানেও ঝামেলা আছে, করাপশন সঠিক হলে সাকা কর্মসাধন শেষে বর্তমানে ফিরতে পারবেন, ইরেইজড বা ডেসট্রাকশন সঠিক হলে আর ফিরতে পারবেন না। ইরেইজড এর ক্ষেত্রে নবসৃষ্ট জগতে আটকা পড়বেন, ডেসট্রাকশনের ক্ষেত্রে ভ্যানিশ হয়ে যাবেন। বেচারার নোবেল হাতানো হবে না।

যা থাকে কপালে, মানবের হিতসাধনই সাকার মূল চাওয়া, নোবেল তো বাই-প্রোডাক্ট মাত্র। নিজ অস্তিত্বের ঝুঁকি নিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে টাইম মেশিনের স্যুইচ চাপলেন মহাজ্ঞানী সাকা।

Manual8 Ad Code

সরাসরি ম্যানহাটন, ১৯৩৯। পারমাণবিক টিমের মদ্যপানের আসরে ভোজবাজির মতো উদয় হলেন সাকা। অমন কড়া নিরাপত্তা ভেদ করে ঐ কক্ষে সাকার আবির্ভাবকে এটমিকরা মদ্যপানজনিত বিভ্রম ঠাওরাল। সে ভুল ভাঙতে দেরি হল না, যখন সাকা চোখের পলকে রবার্টকে টুঁটি চেপে কতল করলেন।

Manual1 Ad Code

কিন্তু ডেসট্রাকশন রিজল্যুশন তত্ত্ব সঠিক হল। নিজ পূর্বপুরুষকে হত্যা করায় সাকার অস্তিত্ব ইনভ্যালিড হয়ে গেল, ছোটখাট বিস্ফোরণে E = mc^2 হিসেব অনুযায়ী আলো বিকিরণ করে ভ্যানিশ হয়ে গেলেন মহামতি সাকা।

রবার্টের লাশে লেখা পাওয়া গেল-

i am a ghost from the future. from now on, whoever tries to make human-killing system, dies like this.

Manual8 Ad Code

ইসিডর রাবি, বেইনব্রিজ, নীলস বোর, ফারমি প্রমুখ এটমিক বম্ব টিম সদস্যরা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যে যেদিকে পারেন চম্পট দিলেন।

আর কেউ কখনো অমন মারণাস্ত্র বানাতে সাহসী হল না। সাকার বিকিরিত শান্তির আলোয় মানব সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।

আর হ্যাঁ, নিয়ম ভঙ্গ করে মহামতি সাকাকে যুগপৎ পদার্থে ও শান্তিতে মরণোত্তর নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হল।

লেখক : গণপ্রজাতনত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code