ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর স্পিনারদের নৈপুণ্যে ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১ দিন আগে

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: ব্যাটিংয়ে হতাশাজনক পারফরমেন্সের পর স্পিনারদের নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগিয়েছে বাংলাদেশ। শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট এখন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ২৭২ রানে অলআউট করার পর নিজেদের ইনিংসে ভালো শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিনে চার উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। আলোকস্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে দিনের খেলা সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে। দিন শেষে তেজনারায়ণ চন্দরপল ৪৩ এবং জাস্টিন গ্রিভস ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। ওপেনার জন ক্যাম্পবেলের অর্ধশতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিল। তবে বাংলাদেশের স্পিনাররা দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে দলকে আবারও লড়াইয়ে ফেরান।

Manual1 Ad Code

মেহেদী হাসান মিরাজের বলে লং-অনের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা মেরে টেস্টে নিজের ষষ্ঠ অর্ধশতক পূর্ণ করেন ক্যাম্পবেল। শেষ পর্যন্ত ৫৪ রানে থামে তার ইনিংস। তার বিদায়ে ম্যাচে আবারও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদ প্রথম সাফল্য এনে দেন বাংলাদেশকে। ১৫ রানে ব্র্যান্ডন কিংকে আউট করেন তিনি। এরপর ক্যাম্পবেল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা শিবনারায়ণ চন্দরপলের ছেলে তেজনারায়ণ চন্দরপল দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ক্যাম্পবেল আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও চন্দরপল ধৈর্যেও সাথে খেলতে থাকেন। প্রথমে আলোকস্বল্পতা এবং পরে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ায় ক্যাম্পবেলের মনোযোগে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে বলে মনে হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা পর খেলা শুরু হলে বাংলাদেশের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনেন মিরাজ। পুনরায় খেলা শুরুর পরপরই তার ফ্লাইট করা বলে ব্যাট চালান ক্যাম্পবেল। দ্বিতীয় স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

এরপর একই ওভারে দুই উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলেন তাইজুল। ৭ রানে কেভাম হজ এবং শূন্য রানে আমির জাঙ্গুকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ফলে ৯৭ রানে চার উইকেট হারায় সফরকারীরা। তবে চন্দরপল ও গ্রিভস দিনের বাকি সময় আর কোনো বিপদ হতে দেননি। ১৪৫ বল মোকাবিলা করে ৪৩ রান করা চন্দরপল দৃঢ়তা দেখিয়ে বাংলাদেশকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দেননি। এর আগে দিনের শুরুতে খেলা ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। আগের দিন ৩ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করেছিল স্বাগতিকরা। আজ সকালে শেষ সাত উইকেট মাত্র ৫৯ রানে হারিয়ে ২৭২ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। বাংলাদেশের ইনিংস গুড়িয়ে দেবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান। তিনি ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা সাদমান ইসলাম ২২১ বলে নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। দিনের দ্বিতীয় বলেই জশুয়া বিশপের বলে দুই রান নিয়ে শতরানে পৌঁছান তিনি।

Manual2 Ad Code

বাঁহাতি স্পিনার বিশপ রিভিউ নিয়ে সাদমানকে আউট করে নিজের অভিষেক টেস্টের প্রথম উইকেট তুলে নেন। এরপর তাওহিদ হৃদয়কেও ফেরান তিনি। অভিষেক ইনিংসে ৬১ রানে ২ উইকেট নিয়ে শেষ করেন বিশপ। গতকাল পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছেড়ে যাওয়া হৃদয় সাদমানের বিদায়ের পর আবার ব্যাটিংয়ে নামেন। তবে আগের দিনের ৪২ রানের সঙ্গে আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি তিনি। হৃদয়ের বিদায়ের পর বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২২১ রান। তবে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছিল দল। মিরাজকে ১৫ রানে বোল্ড করে দেন ওয়ারিকান। এরপর ২ উইকেটে ৪১ রান নিয়ে দিন শেষ করা শামার জোসেফ নাঈম হাসান ও হাসান মুরাদকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আরও বিপদে ফেলেন। শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে আউট করে নিজের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি পূর্ণ করেন ওয়ারিকান। শেষ পাঁচ উইকেট মাত্র ১৯ রানে হারায় বাংলাদেশ। ফলে অন্য প্রান্তে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকা লিটনকে একা রেখেই শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস- ২৭২ : সাদমান ১০৫, তাওহিদ ৪২, লিটন ৩৪; ওয়ারিকান ৫-৫৩

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস- ৪ উইকেটে ১৩৪ : ক্যাম্পবেল ৫৪, তেজনারায়ন ৪৩*, জাস্টিন গ্রীভস ১৫*; তাইজুল ২-৪৪

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code