

মোকছেদুর রহমান মামুন, ভালুকা (ময়মনসিংহ):
ভালুকা উপজেলার এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। নবান্নের আমেজে ধান কাটার ধুম লেগেছে। আমন মৌসুমে বিভিন্ন জাতের সুগন্ধিজাতসহ স্থানীয় জাতের ধানের ব্যপক আবাদ হয়েছ।
গত কয়েক বছর যাবৎ উন্নত জাতের ধানের আবাদ করে আশানুরূপ দাম না পেয়ে হতায় ভুগছে স্থানীয় চাষিরা । তারপরও আনেই বাধ্য হয়ে ধান চাষ করে।
পালগাঁও গ্রামের কৃষক গ্রাম্য ডাক্তার আমজাদ হোসেন জানান এ বছর তিনি এক একর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ৮ কাঠা জমিতে সুগন্ধিজাত চিনিগুড়ি ও ৮ কাঠায় স্থানীয় জাতের আবাদ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবছর ধানের ফলন অনেক বেশি হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম নামের মল্লিকবাড়ির এক চাষী জানান, উফসী ও স্থানীয় জাত ধানের বাজার মূল্য বর্তমানে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা ও চিনিগুড়ি ১৫০০ টাকা মণ দরে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর আমন আবাদে রোগবালাই তেমন ছিল না, বৃষ্টি হয়েছে উপযুক্ত সময়ে যে কারণে আমন ধানের ফলন ভাল হয়েছে। ধান কাটার শ্রমিকদের মজুরি ৪০০ টাকা রোজ হওয়ায় সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
ভালুকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ ইউনিয়নেই কমবেশি আমন ধানের আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে ভালুকা, ভরাডোবা, বিরুনিয়া, মেদুয়ারী ও রাজৈ ইউনিয়ন নদী খাল বিলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এসব ইউনিয়নে আমন আবাদ তুলনামূলক কম হয়। উথুরা, মল্লিকবাড়ি, কাচিনা, ডাকাতিয়া ও হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জমি উঁচু ও সমান্তরাল হওয়ায় এসব এলাকায় আমন আবাদ বেশি হয়।
হবিরবাড়ি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, এ বছর ব্রী-ধান ৪৯, ৫১ ও ৫২, ৭১ সহ স্থানীয় আরও কিছু জাতের আমন ধানের আবাদ হয়েছে। রোগ বালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় তাঁর ব্লকে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা এবার সরকার নির্ধারিত ১০৪০টাকা মণ ধান বিক্রিতে বেশ আগ্রহী।
উপজেলা কৃষি অফিসার নার্গিস আক্তার জানান, ‘চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৪৪০ হেক্টর এর মধ্যে উফসী ১৭ হাজার ৯৮০ হেক্টর, স্থানীয় ২ হাজার ২৭৫ হেক্টর ও হাইব্রিড ১৮৫ হেক্টর জমি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন’।