ভালুকায় পেপে চাষে তুহিন এখন এলাকার মডেল

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

 

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ফল ও সবজি হিসেবে পেঁপে এখন বেশ জনপ্রিয়। শুধু পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য একসময় বাড়ির আঙিনায় চাষ করা হতো ফলটি। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় ভালুকায় এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে পেঁপের। ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের পুড়ুরা গ্রামের ইঞ্জি: আব্দুল্লাহ আল তুহিন লাভবান হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকছেন পেঁপে চাষে।
সারি সারি পেঁপে গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলে আছে অসংখ্য পেঁপে। ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের পুড়ুরা গ্রামের ইঞ্জি: আব্দুল্লাহ আল তুহিন গড়ে তুলেছেন এই পেঁপে বাগান। তাঁর বাগানে টপ লেডি, রেড লেডি জাতের পেঁপে চাষ করা হয়। চারা, বীজ, জৈব সার, জমি প্রস্তুত এসব খাতে তার খরচ হয় ৩ একর জমিতে ৪ লাখ টাকা।
ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের পুড়ুরা গ্রাম। ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ড থেকে ৪ কি.মি দূরে আকাবাক রাস্তা দিয়ে ডান দিকে মাটির রাস্তা ধরে একটু সামনে এগুলেই মিলবে এই গ্রামের দেখা। গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে ইঞ্জি: আব্দুলাহ আল তুহিন। লেখাপড়া বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং টেক্সটাইল। পৈত্রিক জমি দেখাশোনা আর স্থানীয় ব্যবসায় শুরু হয় কর্মজীবন।
বর্তমানে পেঁপে চাষে ইঞ্জি: আব্দুল্লাহ আল তুহিন হয়ে উঠেছেন ভালুকার মডেল। তার সফলতা দেখে গ্রামের অন্যরাও পেঁপে বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তার গাছগুলোতে অসংখ্য পেঁপে ধরেছে। প্রতিটি গাছে ২০-২৫টি পেঁপে শোভা পাচ্ছে। একেকটি পেঁপের ওজন দুই-আড়াই কেজি। তার এই সফলতা দেখে গ্রামের অন্য কৃষকরাও পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
এছাড়াও সাথী ফসল হিসেবে বাগানের ভেতরে আদা চাষ করে এ পর্যন্ত ৬ মণ বিক্রি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তুহিন জানান, মাকড়সা ও ছত্রাক ছাড়া পেঁপে বাগানে তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পুষ্টিমানসমৃদ্ধ পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলে ফেলা যায়। পেঁপে চাষে অর্থনৈতিকভাবে সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশের অনেক বেকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি চাষে অগ্রসর হয় তাহলে তারাও লাভবান হবে।
পুড়ুরা গ্রামের খাদিমুল ইসলাম জানান, তুহিন শিক্ষিত ছেলে। সে হঠাৎ করেই মাঠে পেঁপে চাষ শুরু করে সফল হয়েছে। তার চাষ দেখে আমাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তার সাফল্য দেখে গ্রামের অনেকেই পেঁপে চাষ করার পরিকল্পনা করছে।

Manual3 Ad Code

রেজাউল করিম বকুল এর পরামর্শে তিনি পেপে চাষ শুরু করেন। ৩৫ টাকা প্রতি পিস দরে মল্লিকবাড়ি থেকে নিয়ে আসেন ১৪০০ পেপের চারা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তুহিনকে।
রেড লেডি জাতের পেঁপেগুলো বেশ বড়। ফলের রং লাল-সবুজ। এক একটি ফলের ওজন দেড় থেকে দুই কেজি হয়। এ জাতের পেঁপে পুরু, গাঢ় লাল, স্বাদেও বেশ মিষ্টি ও সুগন্ধিযুক্ত। গাছের উচ্চতা ৬০-৮০ সেন্টিমিটার হলে ফল ধরা শুরু হয়। প্রতিটি গাছে ৪০টির বেশি ফল হয়। পাকা অবস্থায় সহজে নষ্ট হয় না বলে দূর দূরান্তে বাজারজাত করা যায়। এই জাতের পেঁপের রোগ সহ্য করারও ক্ষমতা আছে। টপ লেডি বিশেষ পলিহাউজে মাটির স্পর্শ ছাড়াই উৎপন্ন এই হাইব্রিড পেঁপের চারা। এই চারা রোগ, পোকা-মাকড় ও ভাইরাস মুক্ত। কোন পুরুষ গাছ হয়না, তাই ১০০% গাছেই ফল ধরে।
ইঞ্জি: আব্দুলাহ আল তুহিন জানান, ভালুকা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পেপে চাষের জন্য কোন সহযোগিতা পায়নি। ফোনের মাধ্যমে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও কোন কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে আসেনি।
এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা কৃষি অফিসের মাহাফুজুর রহমান জানান, আমাকে ফোন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ব্যস্ততার কারনে আমি ওনার পেপে বাগানে যেতে পারিনি।
ভালুকা উপজেলা কৃষি অফিসার জেসমিন জাহান জানান, এ বিষয়ে আমি অবগত না, আমাকে কোন অভিযোগ না দেওয়ায় কোন কিছু করতে পারছি না। আশাকরছি, এখন থেকে আমরা নিয়মিত তার পেঁপের বাগান পরিদর্শন এবং পরামর্শ দিতে পারব।

Manual7 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code