মনের কষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে শরীরের উপরও

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট:মানুষের মন খারাপ হওয়া খুব স্বাভাবিক। প্রিয়জন হারানো, ব্যর্থতা, বিচ্ছেদ বা জীবনের কোনো বড় আঘাতে আমাদের ভেতরে গভীর শূন্যতা তৈরি করে। সাধারণভাবে আমরা শোককে শুধু মানসিক যন্ত্রণা হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শোক কেবল মনের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি ধীরে ধীরে শরীরেও প্রভাব ফেলতে শুরু করে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, তীব্র মানসিক চাপ ও শোক শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতাকে পরিবর্তন করতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া মন খারাপ হলে শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে থাকে-

পেশি ও শরীরের ব্যথা

তীব্র শোকের সময় শরীর নিজেকে একধরনের আত্মরক্ষামূলক অবস্থায় নিয়ে যায়। ফলে পেশিগুলো অজান্তেই শক্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় এই টান বজায় থাকলে ঘাড়, পিঠ এবং জোড়ায় ব্যথা শুরু হয়। অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তাদের শারীরিক ব্যথার পেছনে আসল কারণ মানসিক চাপ।

Manual6 Ad Code

মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের বাড়তি ঝুঁকি

শোকের সময় মস্তিষ্কে স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে রক্তনালির কার্যক্রমেও পরিবর্তন আসে, যা অনেক সময় তীব্র মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের জন্ম দেয়। কিছু ক্ষেত্রে আলো ও শব্দে অস্বস্তি, এমনকি বমি বমি ভাবও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন অবস্থা চললে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।

Manual5 Ad Code

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়া

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী শোক শরীরে প্রদাহের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে ফেলে। স্ট্রেস হরমোন শ্বেত রক্তকণিকার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি, ভাইরাল সংক্রমণ বা অন্য অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়া

Manual7 Ad Code

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী শোক শরীরে প্রদাহের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে ফেলে। স্ট্রেস হরমোন শ্বেত রক্তকণিকার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি, ভাইরাল সংক্রমণ বা অন্য অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

হজম ও দৈনন্দিন রুটিনে বিশৃঙ্খলা

শোকের সময় শরীর‘ফাইট অর ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়ায় চলে যায়, ফলে রক্ত প্রবাহ মস্তিষ্ক ও হৃদয়ের দিকে বেশি যায়। এতে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে। অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, কেউ আবার ডায়রিয়া বা বমি বমি ভাব অনুভব করেন। খাওয়ার রুচিতেও বড় পরিবর্তন আসে- অনেকে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন, আবার কেউ একেবারেই খেতে চান না। এর সঙ্গে অনিদ্রা যুক্ত হলে শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

শরীর ও মনকে একসঙ্গে সুস্থ রাখার উপায়

Manual8 Ad Code

শোকের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কারো ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহে উপসর্গ কমে আসে, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। তবে এই সময় শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া জরুরি।

পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং হালকা শরীরচর্চা শরীরকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলা, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা বা থেরাপিস্টের সহায়তা নেওয়া মানসিক ভার কমায়। মেডিটেশন ও ডায়েরি লেখার অভ্যাসও অনেক ক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code