

মাগুরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার সদর উপজেলা রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩ হাজার ৬শ ৫৫ হেক্টর জমিতে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৮ হাজার ৯শত ২০ টন।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১হাজার ৪শত ৬৫ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে আমন ধান উৎপাদনের হয়েছে ৬১ হাজার ৪শত ৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১০০৩০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধানের আবাদ হয়েছে।মাঠের সার্বিক অবস্থা ভালো।

মাগুরা সদর উপজেলার কৃষক টিপু শিকদার বলেন, এবার ১৫ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছি। প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে ধানের ভর্তুকি দিতে হবে না। একই উপজেলার শ্রীকুন্ঠিগ্রামের আকিদুল শেখ বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আশা করি সঠিক বাজারমূল্য পাব।
মাগুরা পৌরসভার দুই নং ওয়ার্ড ভায়না দক্ষিণ পাড়ার কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, এবছর চার বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। জমির ধান ভালো হয়েছে। সোনালি ধান পেয়ে আমি খুশি। পোকামাকড়ের আক্রমণ ও রোগবালাই কম হওয়ায় অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান।
মাগুরা জেলা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ার কৃষক হাফিজার বলেন, বর্তমান বাজারে ধানের যে দাম রয়েছে সেই দাম অব্যাহত থাকলে কৃষক লাভবান হবে না। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে কিছুটা শ্রমিক সংকট রয়েছে। করোনার কারণে শ্রমিকরা বাড়তি মজুরি দাবি করছেন।

তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, মাগুরা জেলায় ধান কাটার কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন রয়েছে ২৬টি, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ৪টি রিপার ৩৩টি। ধান কাটার কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন যা কিনা একটি মেশিন প্রতি ঘণ্টায় এক একর জমির ধান কাটাতে সক্ষম।
এতে করে শতকরা তিন ভাগ খরচ সাশ্রয় করে ধান কাটা সম্ভব। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চার হাজার টাকায় ভাড়া করে মেশিন নিলে এক একর জমির ধান কাটা যায় এই মেশিনে। তাতে করে ধান উৎপাদনে খরচ এবং সময় কিছুটা লাঘব হয় বলে তারা মনে করেন।